![]()


ওসমানীনগর সংবাদদাতা ::
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার চকবাজার ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় অ্যাডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্ট এক নেতার ভাই ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ ওসমানী মেডিকেল কলেজ শাখার সক্রিয় কর্মীকে কমিটির সভাপতি মনোনীত করায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু ছালেহ আল মাহমুদের উদ্যোগে এবং সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ, সহকারী সুপার সাদিকুর রহমান শিবলুসহ কয়েকজন শিক্ষক মিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মনোনয়নপত্রে কমিটির প্রার্থীদের তালিকা পাঠালে সেটিই অনুমোদন দেয় সংশ্লিষ্ট বোর্ড। এতে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় পলাতক চেয়ারম্যান অলি উল্লাহ বদরুলের অনুসারী ডা. মিজানুর রহমানকে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী গত ১৫ জুন জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনুলিপি জমা দেন। অভিযোগে সভাপতির পদ বাতিল বা স্থগিতের দাবি জানানো হয়। তবে এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু ছালেহ আল মাহমুদ বলেন, “আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদের পরামর্শে ইউএনও’র সঙ্গে একাধিকবার কথা বলে কমিটির প্রস্তাব পাঠানো হয়। সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে।”
তবে তার এই বক্তব্যকে অস্বীকার করে ওসমানীনগরের ইউএনও জয়নাল আবেদীন বলেন, “অধ্যক্ষ দায় এড়াতে কথাবার্তা ঘুরাচ্ছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠনে ‘মদদ দেওয়া’ ব্যক্তিরা আগে থেকেই নানা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এবং রাজনৈতিক প্রভাবে কমিটি অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন। তারা অবিলম্বে তদন্ত করে বিতর্কিত সভাপতির পদ বাতিলের দাবি জানান।
এ ঘটনায় বর্তমানে মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকায় চরম অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।