![]()


১৪ নভেম্বর ২০২৪ বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসে বরণ করে নেয়া হল একাদশ শ্রেণির (এইচএসসি-২০২৬) নবাগত শিক্ষার্থীদের। বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলার প্রফেসর ড. মোঃ সাজেদুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সময় টেলিভিশন সিলেটের ব্যুরো প্রধান জনাব ইকরামুল কবীর।
কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মুনীর আহমেদ কাদেরী (অবঃ) এর সভাপতিত্বে ও ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক কামরুল হক জুয়েল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কলার্সহোম শাহী ঈদগাহ ক্যাম্পাসের উপাধ্যক্ষ জনাব আশরাফ হোসেন চৌধুরীসহ সম্মানিত অভিভাবকবৃন্দ।
নবীনবরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্কলার্সহোম ক্যাম্পাস সেজেছিল বর্ণিল সজ্জায়। প্রাণবন্ত এই অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে বছরজুড়ে কলেজের সার্বিক কার্যক্রমের উপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। আলোচনা পর্বের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসফিয়া হোসেইন ও আনিসুর রহমান শাওন। নবাগতদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ঈশাদী ইসলাম ও তাহসিনা ফেরদৌস শোভা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সময় টেলিভিশন সিলেটের ব্যুরো প্রধান জনাব ইকরামুল কবীর জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। স্কলার্সহোমকে সিলেট তথা বাংলাদেশের একটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জুবায়ের সিদ্দিকি (অবঃ) এর অবদান স্মরণ করেন। নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামি দুই বছরে তোমরা যে পরিশ্রম করবে তার উপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কোন অবস্থানে যাবে তোমরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলার প্রফেসর ড. মোঃ সাজেদুল করিম বিগত জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের কথা স্মরণ করেন গভীর শ্রদ্ধায়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বায়ান্ন, উনসত্তর, একাত্তর, চব্বিশ-আমাদের বাংলাদেশে যা কিছু অর্জন, সবই সম্ভব হয়েছে ছাত্রদের কারণে। তোমরাও এমন কিছু করবে যাতে আগামীতে তোমাদের নিয়েও সবাই গর্ব করতে পারে। নিজেদেরকে মোবাইল ফোন ইত্যাদি সকলপ্রকার আসক্তি থেকে দূরে রেখে বর্তমান সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে শিক্ষার্থীদের তিনি বলেন, তোমরা বই পড়ার প্রতি মনোযোগী হও। বই জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়। নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে যথ্যাযথ পড়াশোনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মীনাক্ষী সাহার নির্দেশনায় জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জাঁকজমকপূর্ণ এই অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য যা শিক্ষার্থীরা মনে রাখবে বহুদিন।
সমাপনী বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মুনীর আহমেদ কাদেরী (অবঃ) অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্য প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিসহ সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। বিজ্ঞপ্তি