![]()


সিলেটে বাড়তে থাকা লোডশেডিংয়ে জনজীবন যখন প্রায় স্থবির, তখন সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে সদ্য শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীরা। প্রথম দিনেই ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপাকে পড়তে হয়েছে হাজারো শিক্ষার্থীকে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা চলাকালে ৩ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৩ থেকে ৪ বার লোডশেডিং হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই অস্বস্তিকর পরিবেশে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন। এতে লেখায় ব্যাঘাত ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শুধু পরীক্ষার সময়ই নয়, পরীক্ষার আগের দিন রাত এবং পরীক্ষার দিন সকালেও লোডশেডিংয়ের কারণে চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষায় তার প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
নগরীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরীক্ষার্থীরা বলছেন, পড়াশোনা থেকে শুরু করে পরীক্ষা—সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ সংকট বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এক পরীক্ষার্থী সজীব আহমদ জানায়, সকালে বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার আগে শেষবারের মতো পড়া ঝালিয়ে নিতে পারেনি। এতে আত্মবিশ্বাসেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তার দাবি, অন্তত পরীক্ষার সময়টুকু নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা উচিত।
আরেক শিক্ষার্থী সামিনা আহসান বলেন, পরীক্ষা মোটামুটি ভালো হয়েছে, তবে লোডশেডিংয়ের কারণে প্রচণ্ড গরমে ঘেমে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক অভিভাবক বলেন, এসএসসি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এ সময় এমন লোডশেডিং অগ্রহণযোগ্য। অন্তত পরীক্ষাকালীন সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি।
জানা গেছে, চলতি মাসের শুরু থেকেই সিলেটে লোডশেডিং বেড়েছে। পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে, যা জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবছর বিভাগে মোট ৮৯ হাজার ৬৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৬৫০ জন এবং ছাত্রী ৫৩ হাজার ৯৯৩ জন। ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২২৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিভাগে ২১২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১৫০ মেগাওয়াট। ফলে ৬২ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি জাতীয় গ্রিড থেকে নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় স্থানীয়ভাবে তেমন কিছু করার সুযোগ নেই।
অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড সিলেটের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরেশ চন্দ্র মন্ডল জানান, ৪০৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২৫২ মেগাওয়াট। ফলে প্রায় ১৫৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পরীক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে। তাই এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সময় অন্তত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।