![]()


স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটের যুবক তুহিনসহ উগ্রবাদি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিটিটিসি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান। গ্রেফতারকৃতরা হলো- সিলেটের সাইফুল ইসলাম তুহিন (২১) ও চাঁদপুরে মো. নাঈম হোসেন (২২)।
সিটিটিসি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার এই দুই সদস্য এক বছর ধরে নতুন জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর প্রায় এক মাস হেঁটে পাহাড় থেকে সমতলে আসেন তারা। সমতলে আসার পর গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) এই দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করে।
তিনি আরো বলেন, নতুন জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অনেকেই স্বেচ্ছায় গেলেও অনেককে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে গিয়ে অনেকেই ফিরে আসতে চেয়েছিলেন কিন্তু শত চেষ্টা করেও সেখান থেকে বের হতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান বলেন, সাইফুল ইসলাম তুহিন একটি কওমি মাদ্রাসায় পড়তেন, সেখানের একজন ইমামের মাধ্যমে তিনি উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিজরতে যান। তবে হিজরতে গিয়ে কি করবেন সেটি সাইফুল জানতেন না।
তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর সিলেট থেকে একটি মাইক্রোবাসে সাইফুলসহ তিনজন প্রথমে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় তাদের আরো ৪ জন হিজরতকারীর সঙ্গে দেখা হয়। সেখান থেকে তারা বাসে করে বান্দরবানের দিকে রওনা হন। রাস্তায় তাদের ফোন ও বাসা থেকে নিয়ে আসা টাকা সংগঠনটির এজেন্ট তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়। তাদের বলা হয়েছিল, সেখানে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তারা ব্যবসাও করতে পারবেন, তাই তারা টাকা নিয়ে এসেছিলেন। যাত্রা পথে তাদের চুল ও দাঁড়ি কেটে ফেলা হয়। পরে সাইফুল ইসলাম বান্দরবানে গিয়ে দেখেন, তাদের সঙ্গে একই বাসে আরো ১০ জন হিজরতকারী এসেছিলেন। বান্দরবান থেকে তারা থানচি যান, সেখান থেকে এক রাতে ১২ ঘণ্টা হেঁটে প্রথম প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পৌঁছান।