সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) মো. রজি উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন জল্লারপাড় এলাকার বাসিন্দা ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী কয়সর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কয়সর রহমান বলেন, জল্লারপাড়ের ১৮ নম্বর বাসায় বসবাসকারী মো. রজি উদ্দিন খান নিজের প্রভাব খাটিয়ে সিটি করপোরেশনের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে মাত্র তিন ফুট প্রশস্ত রাস্তা-সংবলিত স্থানে অনুমোদিত নকশা ছাড়াই পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ভবন নির্মাণে বাধ্যতামূলক সেফটি গ্যাপ রাখা হয়নি। ফলে ভবনটি তার বাড়ির একেবারে গা-ঘেঁষে নির্মিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসা আলো-বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এতে ১৮৮২ সালের সুবিধা অধিকার আইনের ১৫ ধারায় স্বীকৃত অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

কয়সর রহমান আরও বলেন, ভবনটিতে প্রয়োজনীয় ফায়ার এক্সিট ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আশপাশের বাসিন্দারা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মো. রজি উদ্দিন খান প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। ঠিকাদারদের বিল আটকে কমিশন আদায়, ঘুষের বিনিময়ে নকশাবহির্ভূত ভবনের অনুমোদন প্রদান এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তোলেন তিনি।

এছাড়া নিজের, স্ত্রী ও আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে জমি, গাড়ি এবং বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, গোয়াবাড়ী এলাকায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল বাংলো নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয় এবং একাধিক জীবনবিমা স্কিমে বিনিয়োগের বিষয়ও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অবৈধ ভবন অপসারণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গত বছরের ২০ নভেম্বর সিটি করপোরেশনে লিখিত আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে স্বত্ব মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া গত ৩০ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেটে মো. রজি উদ্দিন খানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও জালিয়াতির অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কয়সর রহমান জল্লারপাড়ের ১৮ নম্বর বাসার নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ পঞ্চম তলার অবৈধ অংশ অপসারণ, সিসিকের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অবৈধ অনুমোদনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে মো. রজি উদ্দিন খানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে তাঁর সম্পদের দুদকের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রজি উদ্দিন খানের বক্তব্য এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: