![]()


বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ৪২টি পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ও ২২টি ইংলিশ স্কুল ও কলেজের কেন্দ্রীয় সমন্বয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরামর্শ এবং এরিয়া সদর দপ্তর, সিলেট এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি ১৭ পদাতিক ডিভিশন মেজর জেনারেল চৌধুরী মোহাম্মদ আজিজুল হক হাজারী, ওএসপি (বার), এসজিপি, এনডিসি, পিএসসি, এমফিল এর সম্মতিতে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ (জেসিপিএসসি) এর আয়োজনে শিক্ষকদের কার্যকরী শ্রেণি ব্যবস্থাপনা, ক্লাস পরিচালনা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০-২২ ডিসেম্বর ‘ওয়ার্কশপ অন কোয়ালিটি এডুকেশন-২০২২’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে সিলেটের ২ টি সেনানিবাসের মোট ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এবং জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের ২২৭ জন শিক্ষক উক্ত প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। ২২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরণের মধ্য দিয়ে ৩ দিনব্যাপী এই কর্মশালাযর পরিসমাপ্তি ঘটে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এই ৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সিলেট এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল চৌধুরী মোহাম্মদ আজিজুল হক হাজারী।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেসিপিএসসি’র পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদ মাওলা ডন, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। উপস্থিত ছিলেন জেসিপিএসসির অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল মো. কুদ্দুসুর রহমান, পিএসসি ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর অধ্যক্ষবৃন্দ ও প্রধানশিক্ষক।
অতিথি বক্তা হিসেবে ২০ ডিসেম্বর উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুনশী নাসের ইবনে আফজাল ও ২২ ডিসেম্বর উপস্থিত ছিলেন শাবিপ্রবির কাউন্সিলিং সাইকোলজিস্ট মোছা. ফজিলাতুন নেছা শাপলা। এছাড়া আলোচনা উপস্থাপন করেন সিলেট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্ণেল আবু হায়দার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, পিএইচডি এবং ৪টি প্রতিষ্ঠানের মোট ৯ জন শিক্ষক।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, মহান বিজয়ের মাসে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের এই আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয় এবং এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারের প্রণীত শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন ও গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণে দিকে আমাদের আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করতে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। জাতীয় জীবনে দক্ষ, নৈতিক পরিশুদ্ধ, মূল্যবোধসম্পন্ন ও আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেসিপিএসসি’র সভাপতি বলেন, ‘শিক্ষক হবেন জ্ঞান অর্জনের সারথি। তাকে হতে হবে আত্মবিশ্বাসী ও সুন্দর মার্জিত ব্যবহারের অধিকারী। যা শিক্ষার্থী আদর্শরূপে গ্রহণ করবে। শিক্ষক একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব যার মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা। এই সুষ্ঠু পরিবেশের মাধ্যমেই শিক্ষার্থী জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ অর্জনের সুযোগ পায়।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে জেসিপিএসসি অধ্যক্ষ বলেন, ‘প্রশিক্ষণ বা আলোচনা সাধারণত শিক্ষকের বর্তমান দায়িত্ব সুচারুভাবে এবং কর্মসমূহ দক্ষতার সাথে সম্পাদনের পদ্ধতি ও কৌশল শিক্ষা দেয় এবং শিক্ষকের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যোগায়। একজন শিক্ষকের পবিত্র দায়িত্ব হবে তিনি তার শিক্ষকতা পেশায় গুণগত ও পরিমাণগত মানোন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন। কেননা পেশাগত দক্ষতা অর্জন ব্যতীত শিক্ষার কাঙ্খিত মান অর্জন করা সম্ভব নয়।’
জেসিপিএসসি’র উপাধ্যক্ষ মোঃ আবদুল হান্নান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী অধ্যাপক শারমিন আক্তার ও ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় এই কর্মশালা অত্যন্ত সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞপ্তি