![]()


বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মরিয়ম আক্তার মুন্নী (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পিটিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে।
শুক্রবার রাতে বড়লেখা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুড়িরগুল এলাকার সৌদি আরব প্রবাসী মামুনুর রশীদ লাবলুর বাড়ি থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মরিয়ম আক্তার মুন্নী উপজেলার বিওসি কেছরিগুল (ডিমাই) গ্রামের হাজী মকবুল আলীর মেয়ে। তিনি দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের মা।
এদিকে শনিবার দুপুরে বড়লেখা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মরিয়মের বাবা হাজী মকবুল আলী অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় মরিয়মকে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতন করা হতো। এ বিষয়ে তাঁর কাছে মরিয়মের পাঠানো কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ ভয়েস রেকর্ড রয়েছে। এসব রেকর্ডে মরিয়ম তাঁর শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
মকবুল আলী আরও বলেন, মরিয়মের ঝুলন্ত লাশের নিচে একটি বালতি ও মগ পাওয়া গেছে। এ কারণে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে। তিনি তাঁর মেয়ের শাশুড়ি, ননদ ও ভাসুরের স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান।
তবে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।