সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটের পতিত ও এক ফসলি জমি আবাদে আনার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার ::

সিলেট অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও এক ফসলি জমি আবাদে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের চাষ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর কনফারেন্স রুমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত জেলা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়ন উপলক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পতিত ও এক ফসলি জমি রয়েছে। হাওর ও নিম্নাঞ্চলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকার কারণে অনেক জমি অনাবাদি থাকে। এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে বিপুল পরিমাণ জমি আবাদে আনা সম্ভব।

তিনি বলেন, সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব। জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন ও শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করতে খাল খনন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সিলেটে আগাম তরমুজ চাষের সাফল্যকে নতুন কৃষিপণ্যের সম্ভাবনার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তরমুজ চাষের মাধ্যমে সিলেটের কৃষকরা দেশের বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। একইভাবে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলসহ শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনাও যাচাই করা যেতে পারে। স্বল্প সময়ে বিট উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় একই জমিতে অন্য ফসল চাষের সুযোগ রয়েছে।

নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা যাচাইয়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের গ্রামীণ জনপদে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ কৃষিনির্ভর। তাই প্রতিটি কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বাড়াতে হবে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।

তিনি জানান, সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্পদের সম্ভাবনা, এলাকাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ ও সরকারি সহযোগিতার বিষয়ে আগামী সপ্তাহে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কৃষি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সিলেটে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিনসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: