![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সৌদি দূতাবাস, ঢাকার আয়োজনে জাতীয় হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সিলেট বিভাগীয় বাছাই পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। এতে সিলেট বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন মাদরাসা থেকে আসা ৬০ জন কৃতী হাফেজ অংশ নেন। প্রতিযোগিতা শেষে তিনটি গ্রুপ থেকে ১৪ জনকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
শনিবার বিকেলে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকার একটি অভিজাত হোটেলের কনফারেন্স হলে এ বাছাই পর্বের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এ ধরনের আয়োজন শিশু-কিশোরদের মধ্যে পবিত্র কোরআনের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করবে এবং ইসলামী মূল্যবোধ চর্চায় নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করবে। কোরআন শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন শুধু ধর্মীয় জ্ঞানের উৎস নয়, মানুষের জীবন পরিচালনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের কোরআন শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা নৈতিক ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আরও বলেন, বাংলাদেশের হাফেজদের মেধা ও দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান হাফেজরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনাম অর্জন করছেন। এ ধরনের প্রতিযোগিতা তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সৌদি দূতাবাস কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের হাফেজদের বিশ্বদরবারে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতিভা বিকাশেও সহায়ক হবে।
সৌদি দূতাবাসের দাঈ শায়েখ সাইদ বিন নুরজ্জামান আল মাদানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সৌদি দূতাবাসের দাঈ শায়েখ বদর বিন ইসহাক আল মাদানী। যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এস এম সাইফুল্লাহ ও আসাদুল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তাবিস উন নূর, বাংলাদেশ ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির উপপরিচালক মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব ও সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন এবং হাসান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জিয়াউল হক নাসেহ।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের চার জেলার বিভিন্ন মাদরাসা থেকে ৬০ জন কৃতী হাফেজ অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি তিনটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়—৩০ পারা ছেলে, ১৫ পারা ছেলে এবং ১৫ পারা মেয়ে।
এর মধ্যে ৩০ পারা ছেলে গ্রুপ থেকে পাঁচজন, ১৫ পারা ছেলে গ্রুপ থেকে পাঁচজন এবং ১৫ পারা মেয়ে গ্রুপ থেকে চারজনসহ মোট ১৪ জনকে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
অভিজ্ঞ ও বিশিষ্ট ক্বারি-আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হাফেজদের পবিত্র কোরআনের শুদ্ধ তেলাওয়াত ও নির্ভুল মুখস্থ উপস্থাপনা মূল্যায়ন করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হাফেজদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিরা। নির্বাচিতরা ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় সিলেট বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
অনুষ্ঠানে সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসার শিক্ষক, অভিভাবকসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।