![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
২০২৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আগামী ১২ মাসের মধ্যেই মহাসড়কটির নতুন অবয়ব দৃশ্যমান হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর এ বক্তব্যের সঙ্গে ১৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর দেওয়া ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যেরও সামঞ্জস্য রয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলস্থ কুশিয়ারা কনভেনশন হলে ‘সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ’-এর অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগের সরকারের সময়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা হলেও প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি ছিল মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। বর্তমান সরকার প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি জানান, ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজার পর্যন্ত পুরোনো সড়কটি নতুন চার লেনের মহাসড়কে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আখাউড়া-সিলেট রেলপথে ডুয়েলগেজের উদ্যোগ
রেল যোগাযোগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন রয়েছে। আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণে মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। দরকষাকষি শেষে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের রেলপথের বিদ্যমান ঘাটতি দূর করে উন্নত রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এতে সিলেটে উৎপাদিত পণ্য কার্গো ট্রেনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ব্যবসা সহজীকরণে ৩৫৫ দিন থেকে ১৪ কর্মদিবস
ব্যবসা সহজীকরণের বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, নতুন কোম্পানি গঠন, ট্রেড লাইসেন্স, ক্লিয়ারেন্স, আইআরসি এবং মেশিনপত্র আমদানির এলসি খোলাসহ বিভিন্ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া ৩৫৫ দিন থেকে কমিয়ে ১৪ কর্মদিবসে আনার ব্যবস্থা চলছে।
সিলেটের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতকে এগিয়ে নিতে দক্ষিণ সুরমায় ১৮৮ একর জমির ওপর নতুন বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরই এর উন্নয়নকাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
সিলেট নগরের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিলেট সিটি করপোরেশন ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নগরকে ড্রোন, ফেস রিকগনিশন ও ইনফ্রারেড প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সেবার আধুনিকায়ন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে আরজেএসসিসহ বিভিন্ন সেবায় ফেস রিকগনিশন ও ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে অনলাইন ভেরিফিকেশন চালুর কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি সিলেটের ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানের একটি ‘এআই ট্রেনিং সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। সিলেটে এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগের কথা বাসসের প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সিলেট চেম্বার গঠনের আহ্বান
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি দ্রুত নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি গঠনের আহ্বান জানান। ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ যেভাবে কাজ করছে, ব্যবসায়ীদের স্বার্থে সিলেট চেম্বার অব কমার্সও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ যথাযথভাবে তুলে ধরতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনা করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সিলেট রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির শহর। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ব্যবসায়ীদের নিজেদের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। নতুন শিল্প-কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে গেলে সরকারের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা থাকবে বলে জানান তিনি।
মেলা ও বাণিজ্যিক আয়োজন প্রসঙ্গে শ্রমমন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে আয়োজন করা হলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল মনিম মল্লিক মুন্না। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদী পাবেল। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পরিষদের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন।
অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী এবং সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
দ্বিতীয় অধিবেশনে সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শ্যামা হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াজ আহমদ সিদ্দিকী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সংগঠনের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা ফিরোজ উদ্দিন এবং গীতা পাঠ করেন যুগ্ম সম্পাদক রতন দে। নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।