![]()


নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বর্তমান অধিক্ষেত্র বহাল রেখে অবসরের বয়স ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর করা, শূন্য পদে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে সিলেট জেলা বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ঐক্য পরিষদ।
মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সিলেট মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতি ও কাজী কল্যাণ সমিতির সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনটির পক্ষ থেকে পৃথক স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাজী মাও. বদরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক কাজী সৈয়দ মোজাম্মীল উদ্দিন এবং কাজী কল্যাণ সমিতির সভাপতি কাজী মাওলানা জয়নুল ইসলাম মুনিম ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. আব্দুল জলিল খান।
স্মারকলিপি প্রদানকালে কাজী নুরুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যক্ষ কাজী আব্দুস সবুর, কাজী আব্দুর রাজ্জাক, কাজী মো. আব্দুল হাছিব, কাজী জামাল উদ্দিন, কাজী আব্দুস শাহীদ, কাজী জসীম উদ্দীন, কাজী আব্দুল ওয়াদুদ, কাজী জাকির হোসেন, কাজী আব্দশ শাকুর, কাজী আমীরুল ইসলাম, কাজী সিরাজুল ইসলাম, কাজী কয়েছ উদ্দিন খান, কাজী আবদুল বারী সিদ্দিকী, কাজী শামসুজ্জামান, কাজী আব্দুল ফাত্তাহ, কাজী হেলাল উদ্দিন, কাজী নুরুদ্দীন, কাজী মুহিবুর রহমান, কাজী আলীম উদ্দিন, কাজী মাওলানা খলিলুর রহমান, কাজী মাওলানা বদরুদ্দোজা (চেয়ারম্যান), কাজী মাওলানা আমিন উদ্দিন, কাজী মাওলানা আহমদ শিবলী, কাজী মাওলানা মনজুর আহমদ, কাজী মাওলানা আবু সালেহ মওদুদ আহমদ, কাজী মাওলানা কাউছার আহমদ, কাজী মাওলানা জয়নাল আবেদীন, কাজী মাওলানা আসাব আলী, কাজী মাওলানা আব্দুল মুকিত, কাজী মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, কাজী মাওলানা সাব্বির আহমদ, কাজী মাওলানা ইমরান আহমদ ও কাজী মাওলানা বিলাল উদ্দিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশে পাঁচ হাজারের বেশি মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রারদের আয় সীমিত হওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান অধিক্ষেত্র বহাল রাখার পাশাপাশি নিকাহ নিবন্ধন ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর বিধি ১৩ অনুযায়ী বর্তমানে কর্মরত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অধিক্ষেত্র অবসরকাল পর্যন্ত বহাল রাখা; অবসরকালীন কোনো ভাতা না থাকায় অবসরের বয়স ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর করা; কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার অবসরে গেলে তাঁর পুত্রকে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া।
এ ছাড়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন সংশোধন করে পুরুষের বিবাহের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর এবং নারীর ১৬ বছর নির্ধারণ, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ‘অহেতুক হয়রানিমূলক’ কার্যক্রম বন্ধ, নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ডিও লেটার প্রথা বন্ধ এবং নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ ও তালাকের হলফনামা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি বিবাহ নিবন্ধন, তালাক নিবন্ধন, নকল ও কমিশন ফি বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ১৪ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা এবং পাঁচ লাখ টাকার বেশি অঙ্কের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে ১০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণের দাবি করা হয়েছে। তালাক নিবন্ধন ফি ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা, বিবাহের নকল ফি ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা এবং কমিশন ফি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের নেতারা বলেন, নিকাহ রেজিস্ট্রারদের পেশাগত সমস্যা, আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে তাঁদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলো মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।-বিজ্ঞপ্তি