![]()


তাহিরপুর প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর দুই তীর, এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান, নির্মাণাধীন যাদুকাটা সেতুসহ নদীতীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
এ বিষয়ে গত ২৫ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি আবেদনপত্র পাঠানো হলেও সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চিঠিতে সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের অন্তর্গত তাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত যাদুকাটা নদী বালি ও পাথরের জন্য সুপরিচিত। নদীর তীরে প্রায় তিন হাজার গাছ নিয়ে গড়ে উঠেছে এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান, যা একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষা ও বসন্ত মৌসুমে এই বাগান দেখতে লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে।
তিনি অভিযোগ করেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও পুলিশ মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও তা কার্যকর হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
সংসদ সদস্যের ভাষ্য, রাতের আঁধারে প্রতিনিয়ত নদীর তীর কেটে বালি উত্তোলনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে নির্মাণাধীন যাদুকাটা সেতু, এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান, লাউড়ের গড়, ঘাঘটিয়া ও ঘরঘাটি গ্রাম, বিন্নাকুলি বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে এসব স্থাপনা ও জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে তিনি যাদুকাটা নদীতে নিয়মিত নৌ-পুলিশের বিশেষ টিম মোতায়েন অথবা প্রয়োজনে কোস্টগার্ড নিয়োগের মাধ্যমে নদীর দুই তীর ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে দুষ্কৃতকারীদের হাত থেকে রক্ষায় পুলিশি কার্যক্রম জোরদারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘যাদুকাটা নদীর দুই তীরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রশাসনের একার পক্ষে কাজ করা কঠিন। এ জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগও প্রয়োজন।’
তবে প্রশাসনের দায়সারা দায়িত্ব পালনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।