![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের সম্পর্ক ছিল। বুধবার সকালে ওই বাসায় তাহমিনার সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বাবুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাহমিনার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তিনি বাবুলকে চিনে ফেলেন। এরপর সুরাইয়া বেগমকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। পরে সুরাইয়ার স্বামী এম এ সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনজনকে হত্যার পর বাবুল বাসা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে এম এ সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় এলাকায় লোডশেডিং থাকায় বাসা বা আশপাশের সিসি ক্যামেরার গুরুত্বপূর্ণ কোনো ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ফলে আলামত, আটক ব্যক্তির বক্তব্য এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গৃহকর্মীর সঙ্গে বাবুলের সম্পর্কের বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সামনে এলেও ডাকাতি, পারিবারিক বিরোধ বা পূর্বশত্রুতার মতো অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র সরানো হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় রায়নগরসহ নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পিবিআই ও সিআইডির ক্রাইমসিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনার পেছনের কারণ এবং অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। আটক বাবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং উদ্ধার করা আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।