![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৩৩ শতাংশে, যা গত ১৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সোমবার সকালে বোর্ড সচিব চৌধুরী মামুন আকবর ফলাফল প্রকাশ করেন। এ সময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।
বোর্ডের তথ্যমতে, এবার ৮৯ হাজার ৬৮৬ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮৯ হাজার ৭৯ জন, যাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫১ হাজার ৯৫৭ জন। অর্থাৎ প্রায় ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে সিলেটের অবস্থান সপ্তম।
ফল বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ব্যাপক ব্যর্থতা। ইংরেজিতে পাসের হার মাত্র ৬৯.১১ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী এ বিষয়ে ফেল করেছে। গণিতে পাসের হার কিছুটা ভালো, ৭৫.৯৬ শতাংশ।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, এবারের পরীক্ষার্থীদের দুই বছরে দুই ধরনের সিলেবাসে পড়তে হয়েছে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি প্রতিবছরের মতো এবারও ইংরেজি ও গণিতে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে। তিনি জানান, এবার পরীক্ষা তুলনামূলক কঠোরভাবে নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল।
সিলেট বোর্ডে ২০২২ সাল থেকে পাসের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২ সালে ছিল ৭৮.৮২ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৭৬.০৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৭৩.৩৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৬৮.৫৭ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৮.৩৩ শতাংশে — অর্থাৎ শুধু গত এক বছরেই কমেছে ১০.২৪ শতাংশীয় পয়েন্ট। তবে পাসের হার কমলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা বেড়েছে, গতবারের ৩ হাজার ৬১৪ জনের বিপরীতে এবার পেয়েছে ৩ হাজার ৮৩৬ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলে সবচেয়ে বাজে অবস্থা মানবিক বিভাগের। এই বিভাগে ৫৭ হাজার ৭৬০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র ২৭ হাজার ৮১৫ জন, আর ফেল করেছে ২৯ হাজার ৯৪৫ জন — অর্থাৎ ফেলের সংখ্যা পাসের চেয়ে বেশি। বিজ্ঞান বিভাগের ফল তুলনামূলক ভালো, পাসের হার ৮০.৩২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় পাসের হার ৬৪.০৩ শতাংশ।
ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে আছে। ছেলেদের পাসের হার ৫৬.১২ শতাংশ হলেও মেয়েদের পাসের হার ৫৯.৭৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকেও মেয়েরা এগিয়ে; শুধু বিজ্ঞান বিভাগেই ১ হাজার ৯২৪ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে, ছেলেদের মধ্যে পেয়েছে ১ হাজার ৬৮৪ জন।
বোর্ডের অধীন চার জেলার মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে সিলেট জেলা, ৬৩.৭৯ শতাংশ। এরপর মৌলভীবাজার ৫৭.৭১ শতাংশ, সুনামগঞ্জ ৫৬.৯৩ শতাংশ এবং হবিগঞ্জ ৫৬.৯২ শতাংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, বিদ্যালয় পর্যায়ে পাঠদানের দুর্বলতা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং কারিকুলাম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে এই ফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রশ্ন কঠিন হওয়া বা কঠোর মূল্যায়নের যুক্তি দিয়ে এত বড় ধসকে ব্যাখ্যা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিলেট বোর্ডের কর্মকর্তারাও মনে করছেন, ইংরেজি ও গণিতে দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে ভবিষ্যতে ফলাফলের উন্নতি সম্ভব।