![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট নগরীর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে হানিট্র্যাপ চক্রের দুই নারীসহ মোট চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের কবল থেকে দুইজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে কোতোয়ালী থানাধীন মেন্দিবাগ পয়েন্ট এলাকা থেকে মাহমুদুল হাসান রিফাত (২৫) ও তার বন্ধু মাহফুজ আলী (২৫)-কে কৌশলে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয় চক্রের সদস্যরা। পরে তাদের যতরপুর এলাকার নবপুষ্প-১১৩ নম্বর বাসার ৫ম তলায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে রাখা হয়।
সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল চক্রের মূলহোতা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭) ও জেসমিন আক্তার (২২)সহ অন্যান্য সহযোগীরা। ভিকটিমদের ওপর ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন করে এবং ইলেকট্রিক শক দিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাদের জোরপূর্বক উলঙ্গ করে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
এক পর্যায়ে ভিকটিম রিফাত আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে চক্রকে দেয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালী থানায় অভিযোগ করেন।
এর প্রেক্ষিতে কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকিরের দিকনির্দেশনায় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোর ৪টা ২০ মিনিটে এসআই আনোয়ারুল ইসলাম পাঠানের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। অভিযানে ভিকটিমদের উদ্ধার এবং চারজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
সিলেট কানাইঘাট থানার সুরইঘাট এলাকার আজিজুল হক (বাবুল মিয়া)-এর কন্যা তানজিলা আক্তার ওরফে রাবেয়া বেগম তানহা (২৭), সিলেট গোয়াইনঘাট থানার মোহাম্মদপুর এলাকার আলাল উদ্দিনের পুত্র মো. আব্দুল জলিল (৩০), কোতোয়ালী থানার মিরাবাজার এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের কন্যা জেসমিন আক্তার (২২), মোগলাবাজার থানার গঙ্গানগর এলাকার তোফাজ্জল আলীর পুত্র মো. জায়েদ আহমদ (৩৫)।
অভিযানকালে একটি প্রাইভেট কার, একটি সিএনজি অটোরিকশা, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং ভিকটিমদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স ও একটি আইটেল মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা (নং-১৯, তারিখ: ১০/০৪/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পেনাল কোডের ৩৪২/৩২৩/৩৮৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৭৯/৪১১/৫০৬/৩৪ ধারা এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২-এর ৮(১) ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সিলেটে হানিট্র্যাপ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নারীদের ব্যবহার করে কৌশলে টার্গেট ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় পুলিশ।