![]()


হবিগঞ্জ সংবাদদাতা ::
হবিগঞ্জে চুরির অপবাদ দিয়ে এক এতিম শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের পাশাপাশি থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
শুক্রবার সকালে শহরের রাজনগর এলাকায় ইসলামিয়া এতিমখানার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম হাসান ও তার কয়েকজন সহপাঠী মিলে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। সেখানে পড়ে থাকা একটি প্যান্টের বেল্ট তুলতে গেলে এক নির্মাণশ্রমিক তাকে চুরির অপবাদ দিয়ে আটকায়। পরে ভবনের মালিক ও এতিমখানার পরিচালনা কমিটির সদস্য নূরুল হক ও জসিম উদ্দিন শিশুটিকে খুঁটিতে বেঁধে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে মারধর করেন।
পরে এতিমখানার জিম্মায় দেওয়ার পর শিশুটির সহপাঠীরা বিষয়টি জানতে পারে এবং স্থানীয়দের জানায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে নূরুল হককে ঘেরাও করে। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ এসে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর কবির জানান, “অভিযুক্ত নূরুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং শনিবার (২৯ মার্চ) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
এদিকে, রাত ১০টায় ইসলামিয়া এতিমখানার পরিচালনা কমিটি জরুরি সভা করে এবং সর্বসম্মতিক্রমে নূরুল হকের সদস্য পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করে।
শিশুটির মা বাদী হয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নূরুল হক ও জসিম উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে আরও দুইজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই জসিম উদ্দিন পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।