![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটে একদিনের সফরে এসে নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২ মে) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয়, উন্নয়ন ও ক্রীড়ামুখী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
সকাল ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই হযরত শাহজালাল (র.) মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি নগরীর চাঁদনীঘাট এলাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁওয়ের কাশিপুর ইউনিয়নে বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই তিনি নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে এই কাজের সূচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, খালটি পুনঃখনন করা হলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি এবং আরও দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বাসিয়া খালের ২৩ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননে দুইটি শুকনো মৌসুম সময় লাগবে। খালের দুই পাশে ৫০ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, ঋণ সুবিধা ও আর্থিক সহায়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ খুঁজে বের করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
দিনের শেষভাগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সার্বিকভাবে সফরটি ধর্মীয় অনুষঙ্গ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং তরুণ প্রজন্মের ক্রীড়া বিকাশ—এই তিনটি দিককে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।