![]()


কানাইঘাট সংবাদদাতা ::
সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী মঙ্গলপুর আলুবাড়ি এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে শাহেদ আহমদ (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া গেছে। নিহতের স্বজনরা দাবি করেছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর সহায়তায় মেঘালয় রাজ্য পুলিশ লাশ তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
নিহত শাহেদ আহমদ কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের মঙ্গলপুর আলুবাড়ি গ্রামের মশাহিদ আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি আরও কয়েকজনের সঙ্গে অবৈধভাবে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের লাইজুরি এলাকায় অনুপ্রবেশ করেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
শুক্রবার সকালে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করলে জানতে পারেন, শাহেদের গুলিবিদ্ধ লাশ ভারতের লাইজুরি বাঁশকোনা এলাকার ১৩১৯ নম্বর পিলারের অভ্যন্তরে পড়ে রয়েছে।
নিহতের পরিবারের লোকজন লাশ উদ্ধারের জন্য সীমান্তবর্তী লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্পে যোগাযোগ করলে আইনি জটিলতার কারণে তারা লাশ আনতে পারেননি। পরে বিষয়টি জানানো হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানিয়া আক্তারকে। তিনি বিজিবিকে লাশ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। তবে, যেহেতু শাহেদের লাশ ভারতের অভ্যন্তরে পাওয়া গেছে, সে কারণে মেঘালয় পুলিশ লাশ তাদের হেফাজতে নেয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে গভীর রাতে ভারতীয় বিএসএফ অথবা সশস্ত্র খাসিয়াদের গুলিতে শাহেদ আহমদ নিহত হয়েছেন। নিহতের পরিবারের দাবি, তার বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে।
লোভাছড়া বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “শাহেদ আহমদের লাশ ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে থাকার খবর পেয়েছি। থানার পক্ষ থেকে যদি লাশ উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে বিজিবি বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করবে।”
এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, “আমরা শুনেছি, শাহেদ আহমদের লাশ ভারতে রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আসলে আইন অনুযায়ী লাশ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।”
শাহেদ আহমদের পরিবার ও স্বজনরা তার লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।