![]()


দিরাই (সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে একই ইস্যুকে সামনে রেখে একই দিনে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে বিএনপির দুই বলয়। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে শহরের রাজপথে দেখা যায় দলটির নেতাকর্মীদের পৃথক দুটি মিছিল। দু’টি মিছিলই শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানা পয়েন্টে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নৈরাজ্য, অস্থিতিশীলতা ও ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার প্রতিবাদে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে একই দিনে একই ইস্যুতে পৃথক কর্মসূচি ঘিরে দিরাইয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে দিরাই বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে প্রথম বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, দিরাই-শাল্লা আসনের সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীর নির্দেশনায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মিছিলে নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির আলী, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রশিদ চৌধুরী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির তালুকদার। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন।
মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত পথসভা। নেতারা দেশের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর, দুপুর ১২টার দিকে একই ইস্যুতে আবারও সরব হয়ে ওঠে দিরাইয়ের রাজপথ। বিএনপির অপর অংশের নেতাকর্মীরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত পথসভায় নেতারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। কর্মসূচিতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
দলীয় সূত্রের ভাষ্য, দিরাই-শাল্লা আসনে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে নেতাকর্মীদের মধ্যে পৃথক বলয়ের উপস্থিতি রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মসূচিতেও দুই পক্ষকে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। শনিবারের কর্মসূচিতে সেই বিভাজনের চিত্র আবারও প্রকাশ্যে আসে।
তবে মিছিল দুটি আলাদা হলেও দাবি ও বক্তব্যের জায়গায় ছিল মিল। দুই পক্ষই দেশের চলমান পরিস্থিতিতে নৈরাজ্য, অস্থিতিশীলতা ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়েছে। পৃথক কর্মসূচির মাধ্যমে উভয় পক্ষই নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও দলীয় অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।
একই দিনে, মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে দিরাইয়ের একই রাজপথে বিএনপির দুই বলয়ের পৃথক মিছিল ও পথসভা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি করেছে। রাজনীতির মাঠে নেতাকর্মীদের এই পৃথক অবস্থান কতটা স্থায়ী হয়, নাকি ভবিষ্যতে একই ব্যানারে একই রাজপথে তাদের দেখা যাবে—এ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
তবে দুই কর্মসূচির আয়োজকরাই এটিকে নিজেদের সাংগঠনিক কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলে একই দিনে একই ইস্যুতে দুটি মিছিল হলেও দিরাইয়ের বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চিত্রই যেন নতুন করে সামনে এলো।
উল্লেখ্য গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সংসদ সদস্য কে নিয়ে একটি বলয় তৈরি করা হয়। যার ফলে ত্যাগী ও তৃণমূলের কর্মীরা এমপির পাশে যেতে পারেন নি। সে আহুনে ঘি ঢেলে দেওয়া হয় এমপি বরাদ্দ দিয়ে। এমপি বলয়ের নব্য বিএনপির লোকেরা প্রায় ছয় কোটি টাকার কাজ পায়। কোন কাজ না করিয়েই তারা অর্ধেক টাকা তুলে নেয়। এর পর থেকে তৃণমূল বিএনপি আলাদা কর্মসূচি পালন করে আসছে। এমপি বলয় ১৪৪ ধারা জারি করেও তাদের ধমাতে পারেনি।