![]()


আশরাফ উদ্দিন, দিরাই:
স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পেরুয়া-মধুপুর এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সড়ক যোগাযোগের দুর্ভোগের অবসান হয়নি। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও এখনো নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী সড়ক। ফলে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাকা সড়ক ও টেকসই সেতুর দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে পানি বাড়লে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সরেজমিনে জানা যায়, স্থানীয়দের উদ্যোগে যাতায়াতের জন্য নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন স্থানে দুর্বল ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাঁশ পচে গেছে। বৃষ্টির সময় সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। জরুরি প্রয়োজনে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।
মধুপুর গ্রামের জুবায়ের মিয়া বলেন, রাস্তা না থাকায় বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হওয়ার সময় পা পিছলে বই-খাতাসহ পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান তারা।
জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, সড়ক যোগাযোগ না থাকায় কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যাতায়াত খরচও বেশি পড়ে। ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার মানুষ অর্থনৈতিকভাবেও পিছিয়ে পড়ছেন।
মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজলা রানী রায় বলেন, সড়ক নির্মাণের জন্য তারা ইউএনও কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। তবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষায়, ‘এটি আজীবনের সমস্যা। আগে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হতো, এখন সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়।’
চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিতোষ রায় বলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি, কিন্তু পারছি না। সরকারের কোনো বরাদ্দ না থাকায় আমরা বঞ্চিত।’
এলাকাবাসীর দাবি, পেরুয়া-মধুপুর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে দ্রুত একটি টেকসই সড়ক এবং প্রয়োজনীয় কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ করা হোক। তাঁদের মতে, স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।