![]()


স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশের চামড়া শিল্পকে ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাতে রূপান্তরের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, চামড়া শিল্পের বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১৫ মে) সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার জিমনেসিয়াম হলে বিভাগীয় পর্যায়ের ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা-২০২৬ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস। এত অল্প সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব না হলেও দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, “আল্লাহ তৌফিক দিলে বাংলাদেশের চামড়া শিল্প বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাতে পরিণত হবে।”
চামড়া সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি চামড়াও যেন নষ্ট না হয়। এটি আল্লাহর দেওয়া সম্পদ। সম্পদের অপচয় মানে বরকত থেকে বঞ্চিত হওয়া।”
কওমি মাদ্রাসাগুলোর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে চীনের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শিল্প খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে অগ্রগতির প্রতিবেদন জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
বিজ্ঞান মেলায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রশংসা করে তিনি বলেন, কৃষি ও ফায়ার ফাইটিংয়ে ব্যবহৃত ড্রোনসহ বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রজেক্ট তৈরি করেছে শিক্ষার্থীরা। বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলোর জন্য সরকার ফান্ডের ব্যবস্থা করবে বলেও জানান তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, গবেষণায় ব্যর্থতা বলে কিছু নেই; প্রতিটি গবেষণাই নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে। তিনি শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা। পরে মন্ত্রী বিজ্ঞান মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।