![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের তরুণ মুহিবুর রহমান। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে গিয়ে তাকে ঠেলে দেয় যুদ্ধের ময়দানে। শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় প্রাণ হারাতে হয়েছে এই সিলেটী তরুণকে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমতৈল ইউনিয়নের সম্পদপুর গ্রামের বাসিন্দা ও মসুদ মিয়ার ছেলে মুহিবুর রহমান (২৭) গত জানুয়ারি মাসে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত হন বলে জানা গেছে। তবে তার মৃত্যুর বিষয়টি প্রায় চার মাস পর, গত ১৭ এপ্রিল পরিবারের কাছে নিশ্চিত হয় এবং ২০ এপ্রিল তা জানাজানি হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কয়েক বছর আগে স্টুডেন্ট ভিসায় রাশিয়ায় যান মুহিবুর। সেখানে প্রায় আড়াই বছর পড়াশোনা করেন। তবে পরবর্তীতে দেশে এসে বিয়ে করে আবার রাশিয়ায় ফিরে যান। দ্বিতীয়বার যাওয়ার কিছুদিন পর তিনি পরিবারের সদস্যদের জানান, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর জন্য রান্নার কাজে যুক্ত হয়েছেন।
মুহিবুরের ছোট ভাই হাবিবুর রহমান জানান, দালালদের প্রলোভনে পড়ে তার ভাই রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে যুক্ত হন। তাকে বলা হয়েছিল, যুদ্ধে অংশ নিলে মোটা অঙ্কের বেতন ও যুদ্ধ শেষে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। পরিবারের অজান্তেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে একটি বাংকারে অবস্থানকালে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় সেটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই মুহিবুর নিহত হন। রাশিয়ায় অবস্থানরত তার সহকর্মী মেহেদী হাসান প্রথমে পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছান।
তবে ভিন্ন তথ্যও পাওয়া গেছে। রাশিয়ায় অবস্থানরত মুহিবুরের এক সহপাঠী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি বকেয়া ও অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে তার স্টুডেন্ট ভিসা বাতিল হয়ে যায়। পরে জীবিকার তাগিদে স্বেচ্ছায় রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি।
স্থানীয় আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. ইকবাল আহমদ বলেন, পরিবারের কাছ থেকে আমরা জেনেছি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় মুহিবুর নিহত হয়েছেন। তিনি রাশিয়ার হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মশাহিদ হোসেনও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয়ভাবে আমরা তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি।
পরিবারের দাবি, নিহত মুহিবুর ছিলেন তাদের একমাত্র উপার্জনকারী। তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেছেন স্বজনরা।
তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাশিয়ায় নিহতদের মরদেহ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় না বলেই জানা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে মরদেহ গণকবর দেওয়া হয়। ফলে মুহিবুরের মরদেহ দেশে ফেরত আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারানো এই তরুণের মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।