সর্বশেষ আপডেট : ৭ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

চালক ও যাত্রীদের ১৬ ঘণ্টা দুর্ভোগের পর খুলল সিলেটের সকল পাম্প

স্টাফ রিপোর্টার ::

কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই সিলেট বিভাগের সব গ্যাস ও পেট্রোল পাম্প হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চালক ও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। টানা প্রায় ১৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলে পুনরায় চালু হয় পাম্পগুলো।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পাম্প মালিকদের বৈঠক শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন পেট্রোল পাম্প মালিকদের সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে পাম্পগুলোতে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়।

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর পাম্প খুলতেই বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় পাম্প কর্তৃপক্ষকে।

এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নগরীর কয়েকটি পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা এবং হয়রানির অভিযোগ তুলে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়। ফলে রাত থেকেই বিভাগের সব পাম্প বন্ধ হয়ে যায়।

যদিও ভোররাত ৩টার দিকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়, তবুও অধিকাংশ পাম্প মালিক তা মানেননি। ফলে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ বন্ধই ছিল।

এই পরিস্থিতিতে সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও জ্বালানি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেক চালক। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে খালি হাতে ফিরে যান, আবার কেউ যানবাহন রেখেই চলে যেতে দেখা গেছে।

হঠাৎ পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জরুরি সেবাও ব্যাহত হয়। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স জ্বালানি না পেয়ে বিপাকে পড়ে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাধারণ মানুষ।

দুপুরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পাম্প মালিকদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অনিয়মের অভিযোগে জরিমানা করা, অতিরিক্ত নজরদারি এবং প্রশাসনিক চাপের কারণে তারা এই কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে, আগাম ঘোষণা ছাড়া এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন চালক ও যাত্রী সাধারণ। তাদের দাবি, এ ধরনের আকস্মিক কর্মসূচি জনদুর্ভোগ বাড়ায় এবং জরুরি সেবাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: