![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেছেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। সমাজের নানা প্রতিকূলতা ও বাধা অতিক্রম করে নারীরা তাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও দক্ষতার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। এটি দেশ ও নারী সমাজের জন্য গর্বের এবং প্রশংসনীয়।
বুধবার বেলা ১১টায় নগরীর পূর্ব শাহী ঈদগাহস্থ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নারীরা একা এগিয়ে যেতে পারেন না, তাদের পেছনে পুরুষদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সমাজের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মানবকল্যাণ, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও সংস্কৃতিতে যেসব নারী অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন তারা সত্যিই অনুকরণীয়। তাদের অদম্য সাহস, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস অন্য নারীদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, নারীদের আরও স্বাবলম্বী করতে সরকারিভাবে নানা সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। নারী-পুরুষ সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আশরাফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আশিক উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহিলা অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক শাহিনা আক্তার।
মহিলা অধিদপ্তর সিলেটের চাইল্ড রাইটস অফিসার প্রিয়াংকা দাস রায় ও জেলা কালচার অফিসার জ্যোতি সিনহার যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ কার্যক্রমের আওতায় পাঁচটি ক্যাটাগরিতে সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সম্মাননা পাওয়া নারীরা হলেন— অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কলসুমা বেগম, শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আমিনা বেগম, সফল জননী হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রহিমা বেগম, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার কাঞ্চন বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য সিলেট নগরীর রিফাত আরা রিফা। প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট, নগদ ২৫ হাজার টাকা ও সনদপত্র প্রদান করেন।
এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে রানার্সআপ হিসেবে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী মৌলভীবাজারের সায়রা বেগম, শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী সিলেটের চিরশ্রী পৈত্য, সফল জননী সিলেটের গুলরাজ বেগম, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী মৌলভীবাজারের আয়শা আক্তার মুক্তা এবং সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য সুনামগঞ্জের খাদিজা বেগমকে নগদ ৫ হাজার টাকা ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীরা এখন আর ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নন। তারা প্রশাসন, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সম্মাননা প্রাপ্ত নারীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় আরও উৎসাহ জোগাবে। সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিজেদের অবদান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।