![]()


প্রবাস ডেস্ক ::
নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫তম আসর। আগামী ২২ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের Jamaica Performing Arts Center-এ বসবে এই চার দিনব্যাপী আয়োজন। ‘যত বই, তত প্রাণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এবারও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এই উৎসবের আয়োজন করছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব-এর জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন ৩৫তম নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬-এর আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ড. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ৩৫ বছরে পৌঁছানো এই বইমেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ পর্যায়ে এসে বাংলা ভাষা ও বইকে আমেরিকার মূলধারার সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবার সহযোগিতায় সফল ও নিরাপদ আয়োজন সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা শুধু একটি বইমেলা নয়, এটি পুরো আমেরিকার বাংলা ভাষাভাষী বইপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের পাশাপাশি ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা লেখক ও পাঠকরাও এই মেলায় যুক্ত হন। প্রতিবছর মেলার পরিসর ও অংশগ্রহণ বাড়ছে, যা অত্যন্ত আনন্দের।
লেখক সাদাত হোসাইন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বাইরে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা এখন বাঙালির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন ডা. ফারুক আজম। এতে আরও বক্তব্য দেন ডা. মঈনউদ্দীন মুনশী, কানাডা প্রবাসী লেখক জসিম মল্লিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন, মীর হাকিম, মনিরুল হক (অনন্যা), আলমগীর সিকদার লোটন (আকাশ পাবলিকেশন্স), অংকুর প্রকাশনার মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ এবং আবিষ্কার প্রকাশনার দেলওয়ার হাসান। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ কমিটির প্রধান ডা. ফাতেমা আহমেদ ও কার্যকরী কমিটির সদস্য কবি ইউসুফ রেজা।
উল্লেখ্য, গত ৩৪ বছর ধরে নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার উদ্বোধন করে আসছেন বিশিষ্ট লেখকেরা। মন্ত্রী বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি থাকলেও, বাংলা ভাষার একজন বা একাধিক লেখকই প্রতিবছর মেলার উদ্বোধন করেন—এটি এই আয়োজনের একটি স্বতন্ত্র ঐতিহ্য।
সংবাদ সম্মেলন শেষে অতিথিদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।