![]()


প্রবাস ডেস্ক ::
যুক্তরাজ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে বিশ্বনাথ প্রবাসী এডুকেশন ট্রাস্টের দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভা (বিজিএম) ও ২০২৬ সালের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে গোলজার খান চেয়ারম্যান, মোহাম্মদ মোহাব্বত শেখ সেক্রেটারি এবং মনির আহমদ ট্রেজারার পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য ১৭ সদস্যের বোর্ড অব ম্যানেজমেন্ট গঠন করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) লন্ডনের পার্শ্ববর্তী একটি শহরের দি গ্রাউন্ড রাউন্ড হাউস পার্টি সেন্টারে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সংগঠনের মোট ৮০৮ জন ট্রাস্টির মধ্যে ৭৪৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
এর আগে ট্রাস্টের বর্তমান চেয়ারম্যান মাফিজ খানের সভাপতিত্বে এবং বর্তমান সেক্রেটারি গোলজার খানের পরিচালনায় বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিগত অর্থবছরের আয়-ব্যয় ও কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় এবং বার্ষিক স্মারক প্রকাশ করা হয়।
বিশ্বনাথে শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিশ্বনাথবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয় অনুষ্ঠানস্থল। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ‘গোলজার-কুদ্দুছ-মনির’ এবং ‘মিসবাহ-মোহাব্বত-নেছার’ নামে দুটি প্যানেল অংশ নেয়।
ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করা হয়। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রাত ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ইমিগ্রেশন বিচারক বেলায়েত হোসেন অপর চার নির্বাচন কমিশনার এ কে এম ইয়াহইয়া, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল মতিন ও আবুল কাহারের উপস্থিতিতে ফলাফল ঘোষণা করেন।
চেয়ারপার্সন পদে গোলজার খান ৩৯৩ ভোট পেয়ে ৩৫৬ ভোট পাওয়া মিসবাহ উদ্দিনকে ৩৭ ভোটে পরাজিত করেন। সেক্রেটারি পদে মোহাম্মদ মোহাব্বত শেখ ৩৮৯ ভোট পেয়ে ৩৪৪ ভোট পাওয়া আব্দুল কুদ্দুছকে ৪৫ ভোটে হারান। ট্রেজারার পদে মনির আহমদ ৩৮৪ ভোট পেয়ে ৩৪৯ ভোট পাওয়া নেছার আলী লিলুকে ৩৫ ভোটে পরাজিত করেন।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে আখলাকুর রহমান ৪৩৬ ভোট এবং আজম খান ৪২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এ পদে কবির মিয়া ২৯৫ এবং ফরিদ আহমদ ২৯৩ ভোট পান।
জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে আব্দুর রহিম রঞ্জু ৪১৬ ভোট ও শরিফুল ইসলাম ৩৯৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বী শাহ নূরুল আলম নাহিন ৩১২ এবং সিরাজুল ইসলাম ৩০০ ভোট পান।
অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেজারার পদে আবুল হোসেন মামুন ৪০০ ভোট পেয়ে তোফাজ্জুল আলমকে পরাজিত করেন। প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি পদে মোহাম্মদ দৌলত হোসেন ৪১৩ ভোট পেয়ে খালেদ মাসুদ রনিকে ৯৪ ভোটের ব্যবধানে হারান। কালচারাল সেক্রেটারি পদে মদরিছ আলী মফজ্জল ৩৯২ ভোট পেয়ে আব্দুর রবকে ৭৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
সাতটি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আজিজুর রহমান খান রাজু (৪৫১ ভোট), আমিনুর রহমান (৪২৯), আব্দুল বাছিত রফি (৩৮৮), শাহ তাজুল ইসলাম (৩৭৮), রুহেল ইসলাম (৩৭৩), মো. কামরুজ্জামান (৩৭০) এবং আজিজুর রহমান রুমেল (৩৫৭)।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রুহেল মিয়া ৩৪৫, শামীম নুর ৩৩১, মুহিত মিয়া ২৯৯, গোলজার আহমদ ফয়ছল ২৯৫, আব্দুল হামিদ ২৭৯, শামীম আহমদ ২৭৭ এবং মহিউদ্দিন পলাশ ২৬৬ ভোট পান।
বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য দেন ট্রাস্টের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মিসবাহ উদ্দিন ও ফরিদ আহমদ, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম রঞ্জু, কবির মিয়া, ট্রেজারার আখলাকুর রহমান, সহকারী ট্রেজারার হাসিনুজ্জামান, প্রেস অ্যান্ড পাবলিসিটি সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম, কালচারাল সেক্রেটারি মোহাম্মদ দৌলত হোসেন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য আবুল হোসেন মামুন, খালেদ খান, নেছার আলী লিলু, সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, শেখ মোবাশ্বির আলী ও গয়াছ উদ্দিন।