![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সাহসী ও মেধাবী সাংবাদিক শহীদ আবু তাহের মো. তুরাবকে ‘টার্গেট কিলিং’-এর শিকার উল্লেখ করে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেছেন, “তুরাবের মতো যারা জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাদের হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এই বিচারের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।”
রোববার দুপুরে বিয়ানীবাজার পৌর মিলনায়তনে শহীদ তুরাব স্মরণে নাগরিক কমিটির আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “বিপ্লবের পর যদি বিপ্লবী সরকার না আসে, তবে সেই বিপ্লবের স্বাদ নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। বর্তমান সরকারে বিপ্লবীদের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সরকারটি পুরোপুরি বিপ্লবী নয়, এজন্য অনেক কিছুই ধীরগতিতে চলছে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ফ্যাসিবাদের উত্থান রুখতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ফয়জুল ইসলাম। যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দি বিয়ানীবাজার এডুকেশন সোসাইটির সেক্রেটারী কাজী আবুল কাশেম চৌধুরী ও তানভির এলাহী মজুমদার।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক ও সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর, ইবনে সিনা হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান, যিনি শহীদ তুরাব হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতিকে “ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক অধ্যায়” বলে উল্লেখ করেন।
শহীদ তুরাবের বড় ভাই আবুল আহছান মো. আযরফ জাবুর স্মৃতিচারণ করে তার সাহসিকতা ও নিষ্ঠার কথা তুলে ধরেন।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিয়ানীবাজার ইউএনও গোলাম মোস্তফা মুন্না, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি ইকরামুল কবির ও সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, নয়াদিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার, প্রভাতবেলা সম্পাদক কবীর আহমদ সোহেল, বিভাগীয় ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি নাজমুল কবির পাভেল, বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব সেক্রেটারী তোফায়েল আহমদ, শিক্ষাবিদ মাওলানা জমির হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী শহীদ তুরাব চত্বর উদ্বোধন করেন এবং শহীদের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি শহীদ তুরাবের বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুশল বিনিময় করেন এবং ২৫ হাজার টাকার প্রাইজবন্ড উপহার দেন।
উল্লেখ্য, শহীদ সাংবাদিক তুরাব ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সিলেটে ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। তাঁকে স্মরণে ইতোমধ্যে ‘তুরাব চত্বর’ ও ‘শহীদ তুরাব স্মারক পুরস্কার’ চালু করা হয়েছে।