![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
টানা কয়েকদিনের তীব্র তাপপ্রবাহে দগ্ধ দেশের মানুষ অবশেষে কিছুটা স্বস্তির খবর পেয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার (১১ মে) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের চার জেলায় ২১ মিলিমিটার এবং রংপুর বিভাগের কয়েকটি স্থানে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। এতে ওইসব অঞ্চলে গরম কিছুটা প্রশমিত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ জানিয়েছেন, সোমবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত এই বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর ফলে সারাদেশে তাপপ্রবাহ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তিনি বলেন, “এপ্রিল থেকে সাধারণত গরম শুরু হয়, এবার কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও সোমবার থেকে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে, মঙ্গলবার নাগাদ পরিস্থিতি আরও উন্নতি হতে পারে।”
এদিকে, আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছে, সোমবার ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবারও একই রকম আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
রোববারের তুলনায় সারাদেশে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও অধিকাংশ এলাকায় এখনো গরম অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, যশোরসহ দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে তীব্র গরম বিরাজ করছে। আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন নেসা জানান, রোববার রাজধানীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগের দিন শনিবার চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড হয়েছিল এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় ছিল ৪০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মার্চের শেষ দিকে যশোরেও ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
বজলুর রশিদ জানান, সূর্যের তীব্রতা, বাতাসের ধীর গতি, দক্ষিণ থেকে জলীয় বাষ্পের কম প্রবাহ এবং বৃষ্টিহীনতার কারণে এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দেশজুড়ে গরমজনিত রোগবালাই বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে গরমজনিত কারণে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, ৩৬–৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা মৃদু, ৩৮–৩৯.৯ মাঝারি, ৪০–৪১.৯ তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির ওপরে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।