![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামিক স্কলার এবং বর্ষীয়ান আলেম আল্লামা ইসহাক আল মাদানীর প্রথম জানাযার নামাজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযার নামাজে ইমামতি করেন মরহুমের বড় ছেলে হাফিজ হাসান বিন ইসহাক আল হাদী। জানাযায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষসহ কয়েক হাজার মুসল্লি অংশ নেন। জানাযা পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আলেম ও বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন।
আল্লামা ইসহাক আল মাদানী সোমবার সকাল ৮টায় সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
রবিবার (১৯ জানুয়ারি) শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আল্লামা ইসহাক আল মাদানীকে মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
আল্লামা ইসহাক আল মাদানী ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ। তিনি মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং জীবনের দীর্ঘ সময় শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় শায়খুল হাদিস হিসেবে ইলমে নববীর খেদমত করেন। তাঁর শিক্ষাজীবন অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ ছিল। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন।
তাঁর গবেষণা ও আরবি ভাষা বিষয়ে থিসিসগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এছাড়া, তিনি বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ, মহিলা মাদ্রাসা এবং ইসলামী পাঠাগার প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।
সোমবার রাতে গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জ মইরচা বাউসী গ্রামে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করার প্রস্তুতি চলছে।
আল্লামা ইসহাক মাদানীর ইন্তেকালে সিলেটের আলেম সমাজ ও বিভিন্ন স্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় সিলেটজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।