![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৫ ছাড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে অর্ধশতাধিক শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ১৭ জন ভর্তি হয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২০ জন, হবিগঞ্জে ৭ জন, সুনামগঞ্জে ৪ জন, জামালগঞ্জে ২ জন এবং ফেঞ্চুগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারে একজন করে ভর্তি রয়েছে।
হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুই শিশু হলো—সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আব্দুল্লাহ (১০ মাস) এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের হুজাইফ (১০ মাস)। এর আগে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।
চিকিৎসকরা জানান, মৃত শিশুদের মধ্যে হৃদযন্ত্র বিকলতা ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়ার জটিলতা দেখা দিয়েছিল এবং তাদের মধ্যে হামের সংক্রমণের লক্ষণ ছিল। বর্তমানে আরও কয়েকজন শিশু গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৯৯ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪২ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৫ জন, সুনামগঞ্জে ৯ জন, ওসমানী মেডিকেলে ৮ জন এবং হবিগঞ্জে ৮ জন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য হাসপাতালেও রোগী ভর্তি রয়েছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হৃদযন্ত্র বিকলতা ও ব্রঙ্কোনিউমোনিয়াসহ জটিলতায় ভুগছিল এবং হামের সংক্রমণের সন্দেহ ছিল।
শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মিজানুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক।
সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জম্মেজয় দত্ত বলেন, জেলায় এ পর্যন্ত ২৯৪ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২১৭ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১৬০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। জেলায় এ পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নুরে আলম শামীম জানান, সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৪২ জন রোগীর শরীরে হামের উপসর্গ নিশ্চিত হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যা সংখ্যা ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে হামের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।