![]()


সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা ::
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সীমান্তে চোরাকারবারীদের দাপট দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। একাধিক মামলা থাকার পরও চোরাকারবারীরা সোর্স পরিচয় দিয়ে ভারতের সীমান্ত থেকে কোটিকোটি টাকার মালামাল পাচার করছে, বিজিবি, পুলিশ এবং সাংবাদিকদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সীমান্তের চিহ্নিত চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এলাকার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২০ জানুয়ারি) ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে লাউড়গড় সীমান্তে ১২০৩ এর ৩এস পিলারের সংলগ্ন সাহিদাবাদ বিজিবি পোষ্টের সামনে দিয়ে প্রায় ৪/৫শ লোক কয়লা ও পাথর পাচার করতে শুরু করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৫/২০টি মোটরসাইকেল ও ৫০/৬০টি ঠেলাগাড়ি দিয়ে পাচারকৃত কয়লা ও পাথর লাউড়গড় বাজারের চারপাশে মজুত করে ওপেন বিক্রি করা হয়। তবে বিজিবির কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এছাড়াও, সাহিদাবাদ বর্ডার বাজার, দশঘর ও পুরান লাউড় এলাকা দিয়ে সোর্স বাহিনীর পাচারকৃত মালামাল বিজিবি জব্দ করলেও চোরাকারবারীরা আবারো মালামাল পাচার শুরু করেছে। চারাগাঁও সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকেও পাচারকৃত কয়লা ও মাদক প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে, যেখানে সোর্স পরিচয়ধারী চোরাকারবারীরা একাধিক মামলার আসামি।
অন্যদিকে, গত ১৯ জানুয়ারি বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁনপুর সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে সোর্স পরিচয়ধারী চোরাকারবারীরা ভারত থেকে বিভিন্ন মালামাল পাচার করে। গত ৭ দিনে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মালামাল পাচার হয়েছে বলে জানানো হয়। এই সীমান্ত দিয়ে কয়লা, অস্ত্র ও মাদক পাচারের ফলে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিন, সুনামগঞ্জের বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার ডলুরা, চিনাকান্দি, মাছিমপুর সীমান্তে সোর্স পরিচয়ধারী চোরাকারবারীরা অবৈধভাবে মালামাল পাচার শুরু করলে বিজিবি অভিযান চালিয়ে ৪টি পিকআপ ভর্তি ১০ হাজার ৪৯৪ কেজি চিনি, ৯ হাজার ৯২০ প্যাকেট বিড়ি এবং ৯২ কেজি জিরা জব্দ করে। তবে চোরাকারবারীদের আটক করা সম্ভব হয়নি। আটককৃত মালামালের মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৭ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের বিজিবি অধিনায়ক একেএম জাকারিয়া কাদির সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি রয়েছে এবং আটককৃত মালামাল শুল্ক কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।