সর্বশেষ আপডেট : ৫২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে একসাথে ৬৩ জন এতিম কন্যার বিবাহ অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার ::

সিলেট নগরীতে একসঙ্গে ৬৩ এতিম কন্যার গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সংগঠন “সিডস অব সাদাকাহ (Seeds of Sadakah – SOS)” এর উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ও যৌতুক ছাড়াই এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।

বৃহস্পতিবার নগরীর বালুচর এলাকার একটি অভিজাত কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী সামাজিক মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে বর-কনে, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। কারো চোখে আনন্দের অশ্রু, কারও মুখে কৃতজ্ঞতার হাসি—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে মানবিকতার এক অনন্য উৎসব।

বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রেদওয়ানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান বেলাল এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। এছাড়া আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন আবুল খায়ের ও জয়নুল আবেদীন রুহেল।

বক্তারা বলেন, যৌতুকবিহীন বিয়ে যে বাস্তবেও সম্ভব, এই আয়োজন তারই জীবন্ত উদাহরণ। ইসলামের আলোকে বিয়ে সহজ করার যে নির্দেশনা রয়েছে, এ উদ্যোগ সেই শিক্ষারই প্রতিফলন। তারা নবদম্পতিদের জন্য সুখী ও আদর্শ পারিবারিক জীবনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

দেশবরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ শাহ ওয়ালীউল্লাহ বিয়ের খুতবা পাঠ করেন এবং পর্যায়ক্রমে ৬৩টি দম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। পরে নবদম্পতিদের সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নবদম্পতিদের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী, যার মধ্যে ছিল খাট, বালিশ, তোশক, পোশাক ও বিভিন্ন তৈজসপত্র। আয়োজকদের মতে, এসব সহায়তা তাদের নতুন জীবন শুরুকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।

উল্লেখ্য, এ আয়োজনে মোট ১২৬ জন হতদরিদ্র, এতিম ও অসহায় তরুণ-তরুণী বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রতিটি দম্পতিকে প্রায় দুই লক্ষ টাকা সমমূল্যের ৭৭ প্রকার গৃহস্থালি সামগ্রী প্রদান করা হয়।

সংগঠনের প্রধান জয়নুল আবেদীন জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আনন্দ ও স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান আয়োজকরা।

সব মিলিয়ে সেদিন সিলেটের বালুচরের সেই কনভেনশন সেন্টার হয়ে উঠেছিল মানবিকতার এক নীরব বিপ্লবের সাক্ষী—যেখানে ৬৩টি নতুন পরিবারের যাত্রা শুরু হলো আশা, মর্যাদা ও ভালোবাসার আলোয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: