![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, চারিত্রিক সৌন্দর্য ও আদর্শ নেতৃত্বের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। নেতৃত্বের বিকাশ ও সাংগঠনিক মজবুতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্বশীলদের কথা ও কাজের মাধ্যমে ইসলামের আদর্শের সাক্ষ্য হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীর মদিনামার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে সিলেট মহানগর জামায়াতের থানা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে চারিত্রিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চরিত্র ছিল কুরআনের প্রতিফলন। তাই কুরআনের আদেশ মেনে চলতে হবে এবং নিষেধ থেকে দূরে থাকতে হবে। তাঁর ভাষায়, বিজয় দুই ধরনের—দলের বিজয় হলো জনসমর্থন পাওয়া ও ক্ষমতায় যাওয়া; আর ব্যক্তিগত সফলতা হলো জান্নাত লাভ। তাই এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যা জান্নাতের পথে বাধা সৃষ্টি করে।
তিনি দায়িত্বশীল ও কর্মীদের চরিত্র গঠনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাঁচটি বিষয় থেকে দূরে থাকতে হবে—হারাম খাবার গ্রহণ, মিথ্যা বলা, গীবত করা, অলসতা ও অধৈর্যতা। এসব থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে আদর্শ চরিত্র গড়ে তুলতে পারলে মানুষের সামনে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় শিক্ষাশিবিরে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।
এ সময় বক্তব্য দেন জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা জামায়াত নেতা ও সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব ও জাহেদুর রহমান চৌধুরী, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শাকুর ও মাওলানা আব্দুল মুকিতসহ অনেকে।
শিক্ষাশিবিরে মহানগরীর সব থানার মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদের সদস্যরা অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। মানুষের সুখ-দুঃখ ও প্রয়োজনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সংগঠনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। নৈতিক ও সাংগঠনিক মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দায়িত্বশীলদের নিজেদের যোগ্যতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব তৈরিতেও মনোযোগী হতে হবে।