সর্বশেষ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ মামলার রায়ে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

স্টাফ রিপোর্টার ::

বহুল আলোচিত সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলেন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড এবং শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক এবং অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুমকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন।

তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ মোশাহিদ আলী। তিনি বলেন, “এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য নেই। ভুক্তভোগীও আদালতে আসামিদের শনাক্ত করেননি। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও কয়েকজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।”

এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমরা ধর্ষণ করিনি। রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে আমাদের এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।”

রায়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও উৎসুক মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

যেভাবে ঘটেছিল ঘটনা

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামী-স্ত্রী প্রাইভেটকারে করে হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার এলাকা ঘুরে ফেরার পথে টিলাগড়ে এমসি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে থামেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাদের জিম্মি করে প্রাইভেটকারসহ কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে বেঁধে মারধর করে তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র‍্যাব অভিযান চালিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের ডিএনএর সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায়।

বিচার প্রক্রিয়া

২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হলেও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার পর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ভুক্তভোগী, তার স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, আসামিদের স্বীকারোক্তি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, এমসি কলেজের অধ্যাপক এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ মঙ্গলবার এ বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: