![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার অন্তর্গত সতীঘর গ্রামে একটি পরিবারকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন শাহ রুম্মানুল হক নামের এক ব্যক্তি। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ সচিব) মো. আব্দুল ওয়াহাব রাশেদ এবং তার ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনেন।
সংবাদ সম্মেলনে রুম্মানুল হক অভিযোগ করেন, উক্ত কর্মকর্তা ও তার লোকজন ইতিপূর্বে তার ৪৫ শতাংশ ফসলি জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন। এরপর তারা তার বসতভিটা দখলের চেষ্টা করলে তিনি আদালতে একটি স্বত্ব মোকদ্দমা দায়ের করেন, যার বিচারাধীন অবস্থায় তাদের হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, গত ৮ মার্চ আব্দুল ওয়াহাব রাশেদ ও তার ভাই আব্দুল ওয়াদুদ শাহেদের উপস্থিতিতে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় তিনি, তার স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা মারাত্মকভাবে আহত হন। হামলাকারীরা নগদ ১ লক্ষ টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, বিএস খতিয়ান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নেয়। যাওয়ার সময় স্বত্ব মামলা তুলে না নিলে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
৯৯৯-এ ফোন করার পর মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরদিন, ৯ মার্চ অভিযুক্তরা রুম্মানুল হকের সুপারি বাগানে আগুন লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তিনি জানান, মামলার জন্য থানায় গেলে অভিযুক্ত উপ সচিব প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে থানাকে মামলা নিতে বাধা দেন। ফলে, পরে তিনি আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন। এছাড়াও, সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলাটি প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এ ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বড় ভাই শাহ্ এনামুল হক বাংলাদেশ হাই কমিশনের মাধ্যমে দু’টি আবেদন করেন। তিনি দেশে ফিরে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টির আইনগত প্রতিকার চান। তবে অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তা তদন্তে বাধা দিচ্ছেন।
শাহ রুম্মানুল হক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে ন্যায়বিচার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মো. কাবিরুল ইসলাম, মো. আব্দুল মতিন ও জোনেদ আহমদ প্রমুখ।