![]()


শান্তিগঞ্জ সংবাদদাতা:
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে জড়ো হয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের নয়জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় প্রায় ২০ মিনিট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের দামোদরতপী গ্রামের আমীর আলী ও মতলিব মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। আহতদের মধ্যে মতলিব মিয়ার পক্ষের রয়েছেন মতলিব মিয়া (৫৫), হোসাইন আহমদ (২০), আরিয়ান আহমদ (১৪) ও গয়াছ মিয়া (৫৫)। অপরদিকে আমীর আলীর পক্ষের আহতরা হলেন আমীর আলী (৩৮), আল আমিন (২৬), রাহীম আহমদ (১৫), নূর আহমেদ (২৬) ও সামির আহমদ (৩২)। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আহতরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, এর আগের দিন বুধবার বিকেলে একই গোষ্ঠীর আমীর আলী ও মতলিব মিয়ার মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে রাতে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে সালিশ মানার আহ্বান জানান। উভয় পক্ষ সালিশে রাজি হলেও বৈঠকের দিন-তারিখ জানাতে সময় চান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সালিশের তারিখ জানানোর কথা থাকলেও এর আগেই দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।
মতলিব মিয়ার পক্ষের তাঁর ভাতিজা দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, আমীর আলী তাঁর চাচার জমিতে জোরপূর্বক বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে সকালে তাঁর চাচাকে গালাগালি ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে স্থানীয়রা সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলে তারা সালিশে রাজি হন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমীর আলীর পক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আমীর আলী পক্ষের আল আমিন বলেন, আগের দিনের ঘটনার পর স্থানীয় সালিশকারীরা বৈঠকের উদ্যোগ নেন এবং তাঁরাও এতে সম্মত ছিলেন। জোহরের নামাজের পর পঞ্চায়েতকে বিষয়টি জানানোর কথা ছিল। এর আগেই মতলিব মিয়ার পক্ষের লোকজন উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে প্রথমে হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি। সংঘর্ষে তাঁদের পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন উল্লেখ করে আল আমিন বলেন, তাঁর কানে পাঁচটি সেলাই লেগেছে।
মধ্যস্থতাকারী বিএনপি নেতা জুয়েল রানা ও স্থানীয় যুবক ইজাদুর রহমান ইজাদ বলেন, বিষয়টি দুই পক্ষের নিজেদের মধ্যে বিরোধ। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে তা মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। উভয় পক্ষই বিচার-সালিশ মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের দিন নির্ধারণের আগেই তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ বলেন, মারামারির বিষয়টি তিনি জানেন। তবে কোনো পক্ষই এখনো থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, মূলত মহাসড়কে মারামারি হয়নি; লোকজন সড়কে জড়ো হয়েছিল।