সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দিরাইয়ে ৮ কোটি টাকার হাসপাতাল, ১১ বছরেও চালু হয়নি ইনডোর সেবা

তালা ঝুলছে ওয়ার্ডে, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম

আশরাফ উদ্দিন, দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:

উদ্বোধনের সময় ছিল উৎসবের আমেজ, মন্ত্রী-এমপিদের উপস্থিতিতে কাটা হয়েছিল ফিতা। কিন্তু উদ্বোধনের পরই যেন হারিয়ে গেছে সেই ব্যস্ততা। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ২০ শয্যা হাসপাতালের ইনডোর ইউনিটে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ঝুলছে তালা।

প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটি দুই দফায় উদ্বোধন করা হলেও চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে দিরাই, জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ছয়টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ইনডোরের কক্ষগুলো দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত। ওয়ার্ডে পড়ে আছে মৃত পাখির দেহাবশেষ। রোগীদের জন্য বরাদ্দ স্টিলের বেড ও মেট্রেস একটি কক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় সেগুলোতে মরিচা ধরেছে। স্টোর রুমে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে গজ, ব্যান্ডেজ, সিরিঞ্জ, তুলাসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রী। দেয়ালে থাকা এসিগুলোতেও পাখি বাসা বেঁধেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হয়। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ শেষে ২০১৩ সালের ২৩ অক্টোবর এটি প্রথমবার উদ্বোধন করা হয়। পরে আরও প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পর ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় উদ্বোধন করা হয়।

হাসপাতালটিতে অনুমোদিত ১৭টি পদের মধ্যে ১৪টিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। পাশাপাশি এক্স-রে, ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রামের মতো জরুরি সেবার প্রয়োজনীয় ১৩ ধরনের মেডিকেল সরঞ্জামের একটিও নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জগদল ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ লাভলু বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে হাসপাতাল নির্মাণ ও দুই দফা উদ্বোধন হলেও সাধারণ মানুষ এখান থেকে সামান্য চিকিৎসাসেবাও পাচ্ছেন না। জরুরি চিকিৎসার জন্য দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সদরে যেতে হয়।

জগদল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল পাশা বলেন, অবকাঠামো থাকার পরও চিকিৎসক ও সেবা না থাকায় হাসপাতালটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, ইনডোর সেবা চালু ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় জনবল ও মেডিকেল সরঞ্জাম ছাড়া ইনডোর সেবা চালু করা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন এখন একটাই: প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত, দুইবার উদ্বোধন করা হাসপাতালের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য খুলতে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে?

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: