![]()


জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষা খাতে সরকারের বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি করা হবে। শিক্ষার বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে প্রযুক্তির ব্যবহার—যেখানে পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিদ্যালয়ে পৌঁছালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর খাসিয়া সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী খাসিয়া পান-সুপারির মালা পরিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানায়। বিদ্যালয়টির প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী খাসিয়া সম্প্রদায় ও চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তান।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষ ঘুরে দেখেন, শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও স্থানীয়রা নতুন একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের দাবি জানালে প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে কোনো বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারি নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত নীতিমালার অধীনে পরিচালিত হতে হবে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে মৌলিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক মূল্যায়ন এবং ফাউন্ডেশনাল লার্নিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, শ্রেণিকক্ষে নির্ধারিত মান অনুযায়ী পাঠদান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাখাওয়াত এরশেদ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশিক্ষণ) আব্দুল আলীম, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, কানাইঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নুর আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম, জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গোলাম সরওয়ার বেলাল, জৈন্তাপুর মডেল থানার তদন্ত পরিদর্শক আল আমিন মীর, ২ নম্বর জৈন্তাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জুলহাস, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজমল আলী, গভর্নিং বডির সভাপতি ইমাম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
পরে প্রতিমন্ত্রী তেলিজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার আরও কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।