![]()


সিলেট নগরীর দি খাজাঞ্চি বাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সচেতন অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা। তারা অবিলম্বে ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অ্যাডভোকেট কাজী সেবা।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৮৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সিলেটের ডেপুটি কমিশনার ও জয়েন্ট সেক্রেটারি মো. ফয়জুল্লাহসহ স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি সিলেটের একমাত্র ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে এটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে উন্নীত হয়ে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
তবে গত কয়েক বছর ধরে ট্রাস্টি বোর্ডের অপূর্ণতা, সদস্যদের মৃত্যুজনিত শূন্যতা, দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা, প্রশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি এবং কিছু শিক্ষকের অবহেলা ও গাফিলতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে নাজুক হয়ে পড়ে। স্থায়ী অধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ডও ভেঙে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষানুরাগীদের বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রিন্সিপাল ইনচার্জ মোহাম্মদ হোসেন ও ভাইস-প্রিন্সিপাল তাহিয়া সিদ্দিকা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের উপস্থিতিতে রাজকুমার সিংহকে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ এবং মুজিবুর রহমানকে ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কিন্তু মেয়াদ পূর্তির আগেই কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই ফোনে নির্দেশ দিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এডিসি (শিক্ষা) নুরের জামান চৌধুরী রাজকুমার সিংহকে পদত্যাগে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে মুজিবুর রহমানকে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ এবং আবেদা হক ও রুকনুদ্দিনকে ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হলে কিছুদিন প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু পরে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসক মো. সরোয়ার আলম মুজিবুর রহমানকে অপসারণ করে প্রথমে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট টিপু সুলতান এবং পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল হককে প্রিন্সিপাল ইনচার্জ হিসেবে নিয়োগ দেন।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি বেসরকারি ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাবিহীন সরকারি কর্মকর্তাকে প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া অযৌক্তিক, বেআইনি এবং ট্রাস্টি ডিডের লঙ্ঘন। একই ব্যক্তি সরকারি ও বেসরকারি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে পারেন না বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগ করা হয়, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কোনো সভা আহ্বান না করে এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা গঠনতন্ত্রবিরোধী। নিয়ম অনুযায়ী তিন মাস অন্তর সভা করার কথা থাকলেও দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। এমনকি বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের মৃত্যুতে শোকসভাও আয়োজন করা হয়নি।
শিক্ষা কার্যক্রমের অবনতির বিষয়ে বলা হয়, অনেক শ্রেণিতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নেই। ফলে বাংলা শিক্ষক ইংরেজি, ইংরেজি শিক্ষক গণিত এবং গণিত শিক্ষক ইসলাম শিক্ষা পড়াচ্ছেন। কোথাও সঠিকভাবে পাঠদান হচ্ছে না এবং কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থাও নেই।
উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, শিক্ষা বছরের তিন মাস অতিবাহিত হলেও পঞ্চম শ্রেণির গণিতের একটি অধ্যায়ও শেষ হয়নি এবং অনেক ক্ষেত্রে এখনো সিলেবাস দেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে এবং অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— প্রিন্সিপাল ইনচার্জ পদ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রত্যাহার, অভিভাবক প্রতিনিধিসহ পূর্ণাঙ্গ ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগকারী শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগ বাতিল, শূন্য পদে যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদানে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু, আয়-ব্যয়ের হিসাব অভিভাবকদের অবহিতকরণ, পৃথক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এডমিন) নিয়োগ।
বক্তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিপর্যস্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যাংকার ও অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।-বিজ্ঞপ্তি