সর্বশেষ আপডেট : ১৭ ঘন্টা আগে
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শ্রীমঙ্গলে কলেজছাত্র হৃদয় হত্যার রহস্য উদঘাটন: গ্রেফতার ২

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা ::

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কলেজছাত্র হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত গামছা, স্কুল ব্যাগ, ভিকটিমের মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেল।

সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা ও শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন কিশোরগঞ্জের দাড়িয়াকান্দি এলাকার কাজল মিয়া (২০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিরাজুল ইসলাম (২১)। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত হৃদয় কমলগঞ্জ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং পেশায় ওয়াইফাই অপারেটর ছিলেন। তিনি অনলাইনে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন এবং বন্ধুর কাছ থেকে ধার নেওয়া টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন। এই আর্থিক দ্বন্দ্ব থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কাকিয়াছড়া চা বাগানের একটি গাছের নিচে গলায় বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা মনে হলেও পুলিশ অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।

এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্ত টিম তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা জানায়, হৃদয়ের কাছে তাদের প্রায় ২২ হাজার টাকা পাওনা ছিল। টাকা আদায় করতে না পেরে তারা হৃদয়কে কাকিয়াছড়া চা বাগানে ডেকে নেয় এবং গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা মনে করানোর জন্য গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখে। হত্যার পর হৃদয়ের মোবাইল মাত্র ২৫০ টাকায় বিক্রি করে এবং মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, “খুনিরা প্রযুক্তি সম্পর্কে এতটাই সচেতন ছিল যে কোনো ক্লু রেখে যায়নি। তবে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তি এবং মেনুয়্যাল গোয়েন্দা কৌশল ব্যবহার করে রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।”

নিহত হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া উপজেলায়। তার বাবার নাম লিটন মিয়া এবং মায়ের নাম হাসিনা বেগম। সে শহরতলীর শাহীবাগ আবাসিক এলাকায় পরিবারসহ বসবাস করত। পুলিশের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: