![]()


বড়লেখা প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের বারহার গ্রামের দিনমজুর সালাহ উদ্দিন হত্যা মামলার দুই মাস পার হলেও এখনও তদন্তে অগ্রগতি নেই। প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার তো দূরের কথা, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এখনো হত্যা রহস্যের কোনো ক্লু উদঘাটন করতে পারেননি।
এই অবস্থায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী রোববার (২২ জুন) দুপুরে বড়লেখা পৌর শহরে একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। পরে তারা বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
নিহত সালাহ উদ্দিনের ভাগ্নে ইকবাল জাফরের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ছৈদ আলী, আব্দুল হালিম, ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মুজিবুর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুস সামাদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাদির পলাশ, নিহতের বাবা কমর উদ্দিন, চাচা পারভেজ আসুক, ছোট ভাই আমির উদ্দিন এবং ভগ্নিপতি হাফিজ বেলাল আহমদ প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ১৮ এপ্রিল রাতে কিংবা ১৯ এপ্রিল বিকেলের মধ্যে সালাহ উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তার মরদেহ রাতখাল নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা লাশ ভেসে থাকতে দেখে স্বজনদের খবর দেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আমির উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুর রউফ প্রথমে চারজনকে আটক করলেও রহস্যজনকভাবে তিনজনকে ছেড়ে দেন এবং মাত্র একজন—আফজাল হোসেনকে ২৪ এপ্রিল গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেন।
নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধারের সূত্র ধরে সিএনজি চালক মামুন হোসেনের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বজনরা। তারা বলেন, প্রতিদিন সালাহ উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে গ্যাস আনতে যাওয়া মামুন সেদিন কেন তাকে নিয়ে যাননি? তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগও ওঠে, কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় না এনে একাধিক সন্দেহভাজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্বজনদের দাবি।
বড়লেখা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, নিহতের স্বজনদের দেওয়া স্মারকলিপি থানায় গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তে গতি আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারই আমাদের লক্ষ্য।”