![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে বুধবার (২৮ মে) গভীর রাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ৮২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইন করেছে। এসব ব্যক্তিকে জৈন্তাপুর ও ছাতকের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সিলেট সেক্টরের অধীনস্থ ৪৮ ও ১৯ বিজিবির সদস্যরা তাদের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, জৈন্তাপুর উপজেলার মোকামপুঞ্জি সীমান্ত দিয়ে ৩২ জন, মিনাটিলা দিয়ে ২০ জন, কদলখাল দিয়ে ১৪ জন এবং ছাতকের নোয়াকোট সীমান্ত দিয়ে আরও ১৬ জনকে বিএসএফ পুশইন করে। বিজিবি টহল দল এসব অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাজমুল হক জানান, ২৮ মে ভোর রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে একযোগে শ্রীপুর, মিনাটিলা ও নোয়াকোট বিওপি এলাকার সীমান্ত দিয়ে এসব অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আটককৃতদের মধ্যে অধিকাংশই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে রয়েছে শিশু, নারী ও পুরুষ। জানা গেছে, তারা সবাই আগে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছিলেন।
বিজিবি জানায়, ঝিংগাবাড়ি এলাকার মিনাটিলা বিওপি ক্যাম্পের আওতাধীন অঞ্চল থেকে ৬টি পরিবারের ২০ জন, জাফলং ভ্যালি স্কুল সংলগ্ন এলাকা থেকে ৫টি পরিবারের ৩২ জন এবং ছাতকের ছনবাড়ী এলাকার ১২৪৬ নম্বর পিলারের পাশ থেকে ১৬ জনকে আটক করা হয়। পুশইনকৃতদের মধ্যে কুড়িগ্রামের ৫২ জন, যশোরের ৯ জন এবং বাগেরহাটের ৪ জন রয়েছেন।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন—মোঃ আইয়ুব আলী (৪২), তার স্ত্রী হাসিনা বেগম (৩০), ছেলে হাসান আলী (১১), মোঃ জাহিদ হাসান (৩০), তার স্ত্রী রোপা আক্তার (২৩), মোঃ আতাউর (২৫), তার স্ত্রী জান্নাতি (২২), সন্তান জাহিদ (৫) ও আতিকা (১), মোঃ শহিদুল ইসলাম (৩০), তার স্ত্রী নুন নাহার (২৪), কিশোরী শরীফা (২.৫) সহ আরও অনেকে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান আখন্দ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ছাতক থানা পুলিশ পুশইনকৃতদের হেফাজতে নিয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত এলাকায় টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।