![]()


বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেছেন, বাংলাদেশ যখনই মাথা উচু করে দাঁড়াতে চেয়েছে ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে। পিলখানা ট্রাজেডিতে নিহত সেনা অফিসাররা ছিলেন বাংলাদেশের সম্পদ তাই তাদেরকে পরিকল্পিত ভাবে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যারা ছিলেন তাদের তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মুখে আনতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অনেকেই পালিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছে। তাই সবাইকে দেশে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে। সিলেট থেকেই এর আওয়াজ তুলতে হবে।
তিনি বলেন, এই সিলেট থেকেই বাংলাদেশের সকল ন্যায্য দাবী দাওয়া আদায়ের আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয়েছিলো। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলনের সুচনা সিলেট থেকেই হয়েছে। প্রয়োজনে পিলখানার নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ন্যায় বিচার প্রতিষ্টায় আমরা সিলেট থেকে আন্দোলনের সুচনা করবো।
তিনি রোববার রাতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আলোর অন্বেষণ’র উদ্যোগে পিলখানা ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। নগরীর দরগাগেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ কেমুসাসের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিফতাহ সিদ্দিকী আরো বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংস করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীদের হত্যা করা হয়েছে। পতিত স্বৈরাচার সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য ভারতীয় নীল নকশায় দেশপ্রেমিক মেধাবী চৌকস সেনা অফিসারদের হত্যা করেছে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবী শুধুমাত্র বাংলাদেশের না, এটা প্রতিটি মানুষের দাবীতে পরিনত করতে হবে।
কবি ও বাচিকশিল্পী শিল্পী সালেহ আহমদ খসরুর সভাপতিত্বে ও যুব সংগঠক রাশেদুজ্জামান রাশেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে মুল প্রবন্ধ পাঠ করেন ‘আলোর অন্বেষণ’র সভাপতি সাজন আহমদ সাজু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, দৈনিক নয়া দিগন্তের সিলেট ব্যুরো প্রধান আব্দুল কাদের তাপাদার।
বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মদন মোহন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান আকবর হোসেন চৌধুরী, কবি ও শিক্ষাবিদ ছয়ফুল আলম হায়াত, সিলেট লেখক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সাইফুল করিম চৌধুরী, কবি ডা. মাশুকুর রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ সাত্তার, জকিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রহমত আলী, সিলেট মহানগর বিএনপি সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন আহমেদ মাসুক, কবি বেলাল আহমদ চৌধুরী, এডভোকেট মুহাম্মদ আব্দুল হাফিজ, মহানগর যুবদলের সহ সভাপতি মইনুল ইসলাম, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান, কবি নাজমুল আনসারী, সাংবাদিক সংগঠক এএইচ আরিফ, গাঙচিল সাহিত্য পরিষদ সভাপতি জগলুল হক, জসিম বুক হাউস সত্ত্বাধিকারী জসিম উদ্দিন, আলোর অন্বেষণ সহ সভাপতি নাহিদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক তফাজ্জুল হক সুমন, সমাজকর্মী শাহ মহসিন আহমদ, সাংবাদিক জুবের আহমদ সার্জন, যুব সংগঠক আবুল বশর সাকু আহমদ, পরিমল পাল ও জুনেদ আহমদ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ অন্তর্ববর্তী সরকারের কাছে পিলখানা ট্রাজেডির সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার দাবী করেন। সঠিক বিচারের দাবীতে ২৫শে ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। বিডিআর বিদ্রোহের বিচার প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় সেই দাবী আদায়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব আসে। পরবর্তীতে প্রয়োজনবোধে বিডিআর বিদ্রোহের ন্যায় বিচার প্রতিষ্টার স্বার্থে গণঅনশন, লং মার্চ, গণসাক্ষর সংগ্রহ এবং লিফলেট বিতরণের প্রস্তাব দেয়া হয়। আলোচনা সভায় সবাই আশা প্রকাশ করেন বর্তমান সরকার এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের সঠিক বিচারকার্য সম্পন্ন করবে। বিডিআর বিদ্রোহে নিহত বীর সেনা অফিসারদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আলোচনা সভা সমাপ্ত করা হয়।-বিজ্ঞপ্তি