![]()


বড়লেখা প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের ঘোলসা গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। জমির সীমানা, গাছপালা কর্তন ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর বিষয়টির বাস্তব অবস্থা জানতে সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।
ঘোলসা গ্রামের সোনাহর আলীর পরিবার ও প্রতিবেশী আব্দুস সালামের পরিবারের মধ্যে এ বিরোধ চলে আসছে বলে স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে জানা গেছে। বিরোধের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষ সম্প্রতি পৃথক সংবাদ সম্মেলনেও নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
আব্দুস সালামের অভিযোগ, তাঁর মালিকানাধীন জায়গা থেকে গাছ কেটে নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি শাহবাজপুর পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে সোনাহর আলী ও তাঁর পরিবারের দাবি, কর্তন করা গাছগুলো তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন ভূমিতে নিজেদের হাতে লাগানো ছিল এবং তারাই গাছগুলো বিক্রি করেছেন। তাদের অভিযোগ, হয়রানি করার উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, সোনাহর আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।
দুই পক্ষের এসব পরস্পরবিরোধী অভিযোগের বাস্তবতা জানতে সাংবাদিকদের প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জমির সীমানা, কর্তন করা গাছের অবস্থান এবং কথিত চলাচলের রাস্তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজনসহ স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
সরেজমিনে যা দেখা গেছে, অভিযোগে উল্লেখ করা কর্তন করা গাছগুলোর গুঁড়ি আব্দুস সালামের স্থাপিত সীমানা পিলারের ভেতরে পাওয়া যায়নি। সেগুলো সীমানা পিলার থেকে কিছুটা দূরে এবং সোনাহর আলী যে ভূমিকে নিজের মালিকানাধীন বলে দাবি করছেন, সেই অংশে অবস্থান করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে আব্দুস সালামের অভিযোগে উল্লেখ করা দক্ষিণ দিকের চলাচলের রাস্তার বিষয়টিও প্রতিনিধি দল পর্যবেক্ষণ করে। সেখানে বর্তমানে কোনো দৃশ্যমান চলাচলের রাস্তা পাওয়া যায়নি। ওই অংশটি ঝোপঝাড়, লতাপাতা ও গাছগাছালিতে আচ্ছাদিত অবস্থায় দেখা যায়।
তবে সরেজমিনে সাংবাদিকদের এ পর্যবেক্ষণ কোনো পক্ষের জমির মালিকানা, সীমানা কিংবা চলাচলের আইনগত অধিকার নির্ধারণ করে না। জমির প্রকৃত মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণের জন্য সরকারি ভূমি রেকর্ড, দলিলপত্র, দখলসংক্রান্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিরোধটি সামাজিকভাবে মীমাংসার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ অবস্থায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষভাবে জমির সীমানা নির্ধারণ এবং গাছপালা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধীয় বিষয়গুলো নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের মতে, পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র যাচাই, সরেজমিনে সীমানা নির্ধারণ এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় বিরোধের নিষ্পত্তি করা হলে দীর্ঘদিনের এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হতে পারে।