![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সারাদেশের মতো সিলেটেও অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’। এই অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের যৌথ অংশগ্রহণের কথা থাকলেও সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত সিলেটে শুধুমাত্র পুলিশের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। ফলে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযানে সকল বাহিনীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীকে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর আওতায় পুলিশের অভিযানে সিলেট বিভাগে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগর থেকে ৬ জন, সুনামগঞ্জে ৬ জন, মৌলভীবাজারে ৭ জন এবং হবিগঞ্জে ৩ জন রয়েছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের সবাই একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি। বিশেষ করে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ছাত্র আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা এবং ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশের ১৪টি লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, মহানগর এলাকায় পুলিশের অভিযানে ৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে, তবে যৌথ বাহিনীর হাতে এখনো কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।
সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা এএসপি সম্রাট তালুকদার জানিয়েছেন, জেলা পর্যায়ে রবিবার মধ্যরাত থেকে অভিযান শুরু হয়েছে এবং সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ জানিয়েছেন, যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান চলছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার হলে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ কার্যকর ফলাফল বয়ে আনবে বলে আশা করছেন নগরবাসী।