![]()


প্রবাস ডেস্ক ::
গৌরবের মহান বিজয় দিবস এবং স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত অনারারি কনসাল ড. ওয়ালি তছর উদ্দিন এমবিই, ডিবিএ, এফআরএসএ-এর গৌরবময় অর্জন উপলক্ষে লন্ডনের হাউস অব লর্ডসের কমিউনিটি রুম-ওয়ান-এ এক আলোচনা ও সম্মাননা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) এ অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন লর্ড রামি রেঞ্জার। কো-হোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিজনেস লিডার ও কাউন্সিলর নাজ ইসলাম। অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজনে যুক্ত ছিলেন নর্থ্যাম্পটন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস চেম্বারের সেক্রেটারি জেনারেল মো. মুজিবুর রহমান, ডেপুটি প্রেসিডেন্ট টিপু রহমান এবং ট্রেজারার সলিসিটর প্রিন্স সাদিক চৌধুরী এলএল.এম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাউস অব লর্ডসের সদস্য ব্যারোনেস পোলা উদ্দিন, নর্থ্যাম্পটন সাউথের এমপি মাইক রিডার, পপলার ও লাইমহাউসের এমপি আফসানা বেগম এবং ব্রিটিশ আর্মির প্রতিনিধি অশোক কুমার এমবিই।
স্বাগত বক্তব্যে লর্ড রামি রেঞ্জার মহান বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি স্কটল্যান্ডে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত অনারারি কনসাল ড. ওয়ালি তছর উদ্দিন এমবিই-এর পেশাদারিত্ব, সাংগঠনিক দক্ষতা ও মানবিক নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তাঁর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। এ সময় কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর হাতে সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।
সম্মাননা গ্রহণ করে ড. ওয়ালি তছর উদ্দিন এমবিই বলেন, মহান বিজয় দিবসে প্রাপ্ত এই সম্মান তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। তিনি এ সম্মান মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদ এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতি উৎসর্গ করেন।
অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে মহান স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের বাংলাদেশমুখী বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকেও তাঁরা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
নর্থ্যাম্পটন ব্রিটিশ বাংলাদেশি বিজনেস চেম্বারের সেক্রেটারি মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে কো-হোস্ট ও নর্থ্যাম্পটন টাউন কাউন্সিলের কাউন্সিলর নাজ ইসলাম প্রবাসে ব্যবসা ও কমিউনিটি উন্নয়নে ড. উদ্দিনের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্মান ও কমিউনিটির কাজে সবাই ঐক্যবদ্ধ—আজকের উপস্থিতিই তার প্রমাণ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইউরোপ–বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি ও ড. ওয়ালি তছর উদ্দিন এমবিই-এর কনিষ্ঠ কন্যা মিসেস রুহালি উদ্দিন, ব্রেন্ট কাউন্সিলের কাউন্সিলর পারভেজ আহমেদ ও রীতা বেগম, আরসিআই অ্যাকাউন্টেন্সির সিইও প্রফেসর ড. সানাওয়ার চৌধুরী, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন ইউকে-এর সেক্রেটারি জেনারেল মিতু চৌধুরী, চিফ ট্রেজারার টিপু রহমান, ব্রিটিশ বাংলাদেশি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দারসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বিজয় দিবসে তাঁরা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন—প্রবাসীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষপর্বে অতিথিদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সলিসিটর সাদিক চৌধুরী এলএল.এম।