![]()


স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় গঠিত জেলা প্রশাসনের তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও রোববার (১৭ আগস্ট) সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় তদন্তের স্বার্থে কমিটি আরও তিন দিনের সময় বৃদ্ধির আবেদন জানায়।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসেন সিংহ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। বিস্তারিত যাচাইয়ের জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন। তাই জেলা প্রশাসকের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে। আপাতত মৌখিক অনুমতি মিলেছে, লিখিত অনুমতিও মিলবে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর এবং সংলগ্ন রেলওয়ে বাঙ্কারে ব্যাপক লুটপাট চলে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যে অন্তত দেড় কোটি ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে, যার বাজারমূল্য ২০০ কোটির বেশি। একসময় দৃষ্টিনন্দন পর্যটন এলাকা এখন প্রায় পাথরশূন্য হয়ে পড়েছে, রেলওয়ে বাঙ্কারও ধসে পড়েছে।
দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ গত ১২ আগস্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির প্রধান করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসেন সিংহকে। সদস্য রাখা হয় কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আফজারুল ইসলামকে।
তবে এই কমিটিকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, যাদের দায়িত্বকালে লুটপাট বেড়েছে তারাই এখন তদন্ত কমিটির সদস্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউএনও আজিজুন্নাহারের দায়িত্বকালে লোকদেখানো অভিযান আরও শিথিল হয়ে পড়ে এবং লুটপাটকারীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। একইভাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের নামে নিয়মিত টাকা উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।
এ নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, যাদের গাফিলতিতে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট হলো, তাদের দিয়েই আবার তদন্ত করানো হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদা আক্তার বলেন, “যার ব্যর্থতায় লুট হলো, তাকেই আবার তদন্তে বসানো জনগণের সঙ্গে তামাশা ছাড়া কিছু নয়।”
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক কাশমীর রেজা বলেন, “প্রশাসনের নাকের ডগায় এ লুটপাট হয়েছে। যোগসাজশ ছাড়া দিনের পর দিন এমন লুটপাট সম্ভব নয়।”
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ গণমাধ্যমকে জানান, “ইউএনও এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে সাচিবিক দায়িত্ব পালনের জন্য। তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত আছে। তদন্তে যদি কারও গাফিলতি প্রমাণিত হয়, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তদন্ত কমিটির প্রধান পদ্মাসেন সিংহও ইউএনওর উপস্থিতিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “তিনি বহু অভিযান পরিচালনা করেছেন, সাজা দিয়েছেন। তাঁর উপস্থিতি তদন্তে কাজে দেবে।”
তবে স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো মনে করছে, যাদের ব্যর্থতার কারণে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট হয়েছে, তাদের দিয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব হবে না। স্থানীয়দের ভাষায়, “ব্যর্থদের দিয়ে তদন্ত মানেই সত্যকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা।”
নতুন করে সময় বাড়ানোর পর আগামী বুধবার (২০ আগস্ট) তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।