![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বিএনপির মিডিয়া সেল ও দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও সকালেই শোকসংবাদ প্রকাশ করা হয়।
শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, নাতনী জাইমা রহমান, পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জানাজার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে বলে পরিবার ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
দেশের রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। সামরিক স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তার ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনস্বীকার্য। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রস্থানকে গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সংক্ষিপ্ত জীবনী ও রাজনৈতিক পথচলা
১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৬০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর সংকটময় সময়ে রাজনীতিতে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। ১৯৮৪ সালে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
আশির দশকে স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ অভিধায় পরিচিতি পান। একাধিকবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দিত্ব সত্ত্বেও আন্দোলন থেকে সরে যাননি। ১৯৯১ সালে অবাধ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। শিক্ষা খাতে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি কর্মসূচিসহ একাধিক নীতি তার সরকারের সময় বাস্তবায়িত হয়।
পরবর্তী সময়ে ২০০১ সালে আবারও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার নেতৃত্ব স্বীকৃতি পায়; ২০০৫ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় তাকে স্থান দেয়। তিনি সংসদীয় ইতিহাসে যে আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, সবকটিতেই বিজয়ের বিরল রেকর্ডের অধিকারী।
২০১৮ সালে একটি মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হলেও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একে একে মামলাগুলোতে তিনি খালাস পান।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পর্যায়ে শোকপ্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। সমর্থক-অনুসারীদের কাছে তিনি থাকবেন গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক।