![]()

স্পোর্টস রিপোর্টার ::
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাটকীয় ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ঢাকা।
ঢাকার আমন্ত্রণে প্রথমে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী। আগের ম্যাচের জয়ের আত্মবিশ্বাস থাকলেও ইনিংসের প্রথম বলেই ধাক্কা খায় দলটি। ইমাদ ওয়াসিমের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও ইয়াসির আলী বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হন। দায়িত্ব নেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা শান্ত এদিন ২৮ বলে ৩৭ রান করেন, যা দলীয় সর্বোচ্চ। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও থিতু হতে পারেননি, ২৩ বলে ২৪ রান করে ফেরেন।
মধ্যক্রমের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৩২ রানেই থামে রাজশাহীর ইনিংস। শেষদিকে মোহাম্মদ নাওয়াজ ২৬ বলে অপরাজিত ২৬ রান করলেও বড় সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। বল হাতে ঢাকার হয়ে দুর্দান্ত ছিলেন ইমাদ ওয়াসিম। চার ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। নাসির হোসেন শিকার করেন ২টি উইকেট, আর সালমান মির্জা, জিয়াউর রহমান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন নেন একটি করে।
১৩৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঢাকার শুরুটাও ছিল নড়বড়ে। মাত্র ৫ রানেই ফিরে যান সাইফ হাসান। উইকেট ধীরে হওয়ায় চাপ বাড়ছিল। এক প্রান্ত আগলে রেখে আবদুল্লাহ আল মামুন খেলেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ৩৯ বলে ৪৫ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনি।
মাঝপথে নাসির হোসেনের ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ম্যাচ কিছুটা কঠিন হয়ে যায়। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন সাব্বির রহমান। তাঁর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ১০ বলে ২১ রানের কার্যকর ইনিংসে চার-ছক্কায় রাজশাহীর শেষ আশাটুকুও ভেঙে দেন সাব্বির। সঙ্গে শামিম হোসেন ১৩ বলে ১৭ রান করে চাপ কমান। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন সাব্বির।
এই জয় ঢাকার জন্য শুধু পয়েন্ট টেবিলের সাফল্য নয়, আবেগেরও। ম্যাচের আগে অনুশীলনের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকির মৃত্যু হয়। সতীর্থ ও দলের সদস্যদের মতে, এই জয় তার প্রতি শ্রদ্ধা হিসেবেই উৎসর্গ করা হয়েছে।
এক ম্যাচের দাপুটে জয়ের পর আত্মবিশ্বাসে থাকা রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে থামিয়ে দিয়ে আসরে শক্ত বার্তা দিল ঢাকা ক্যাপিটালস।