সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জিয়া উদ্যানে বেগম জিয়ার দাফন সম্পন্ন

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-কে সংসদ ভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

বিকেল সোয়া ৪টার দিকে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। কবরে সবার আগে নামেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজ হাতে তিনি মাকে কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি কবর থেকে উঠে আসেন।

এর আগে দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিএনপির শীর্ষ নেতারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, কূটনীতিক ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। জানাজা শেষে মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। পথে সড়কের দুপাশে দাঁড়িয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। পুরো এলাকায় শোকাবহ নীরবতা বিরাজ করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দাফন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দায়িত্ব পালন করেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেও আরেক দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক জানাজা পড়ান। জানাজার আগে তারেক রহমান উপস্থিত মুসল্লি ও দেশবাসীর কাছে মায়ের জন্য দোয়া চান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার কাছে কারও কোনো পাওনা থাকলে যোগাযোগ করলে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে এবং তার আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

জানাজায় প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। পরবর্তীতে তাকে চন্দ্রিমা উদ্যানে সমাহিত করা হয়, যা বর্তমানে জিয়া উদ্যান নামে পরিচিত। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিয়ে হয়। জিয়ার মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির নেতৃত্বে আসেন এবং ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ৪০ দিন থাকার পর মঙ্গলবার ভোরে চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে দেশে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং বুধবার সাধারণ ছুটি ছিল।

খালেদা জিয়ার দাফনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ, ঘটনাবহুল অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: